বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে নারী শ্রমজীবীদের আট ঘন্টা কাজ করতে হবে না, তারা পাঁচ ঘন্টা কাজ করবে। ৬০ বছরের ওপরে যাদের বয়স তারা ফ্রি চিকিৎসা পাবে। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে যাকাত চালু করা হবে। আগামি দেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফের।

বুধবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) লালমোহন মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-৩ আসন (লালমোহন-তজুমদ্দিন) ১১ দলীয় জোটের ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী নিজামুল হক নাইমের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা তো নয়ই কোন একটি কর্মীও চাঁদাবাজি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর দুজন মন্ত্রী ছিলো তাদের বিরুদ্ধে কোন সংস্থা দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি। আমাদের বাংলাদেশে বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিলো তারা নতুন কিছু দিবে না। তারা আবার ক্ষমতায় আসলে জুলুম,চাঁদাবাজি ফিরে আসবে। বিগত সময়ে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ফ্যাসিস্ট সরকার পাচার করেছে। এসব টাকা ফিরিয়ে এনে বেকারদের কর্মসংস্থান করা হবে। আমরা তরুনদেরকে বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। এসময় তিনি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী নিজামুল হক নাঈমকে ফুলকপি মার্কায় বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

১১দলীয় ঐক্যের জামায়াত সমর্থিত ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নিজামুল হক নাইম বলেন,স্বাধীনতার পর বিগত ৫৪ বছর আমরা নিস্পেশিত ছিলাম,আগামি ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে আপনারা চাঁদাবাজির কবর রচনা করবেন,আমরা সকল অপশাসনের কবর রচনা করতে চাই। আগামীতে আলোকিত বাংলাদেশকে গড়তে তিনি সকলের কাছে ফুলকপিতে ভোট প্রার্থনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিডিপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,পতিত স্বৈরাচারের দোসররা বাংলাদেশকে আবার ৫ই আগস্টের আগের অবস্থায় নিয়ে আমাদের জুলাইয়ের লক্ষ্য ধুলিসাৎ করার জন্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই। ডা:শফিকুর রহমানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ নতুন করে শপথ নিয়েছে। আপনারা দাঁড়িপাল্লা সমর্থিত ফুলকপিতে ভোট দিবেন। আমরা ন্যায় ইনসাফের সমাজ গড়বো।

জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ১৭ বছর নিস্পেষিত হয়েছে। তাঁরা যখন তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে তখনই আয়না ঘর নামক বন্দীশালায় তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যাদের ক্ষমতার সময়ে তিনবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা আবার কিভাবে বাংলাদেশকে দুর্নীতি মুক্ত করবে। এই জমিনে আর কোনো স্বৈরাচার বরদাশত করব না। যদি আমাদের মা বোনদের উপর হামলা হেনস্তা করা অব্যাহত রাখা হয় তাহলে ইসলামী ছাত্র শিবির এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আপনারা পালানোর জায়গা পাবেন না। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফুলকপি মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।

জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওঃ মোঃ আখতার উল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল অঞ্চল টীম প্রধান মাওঃ ফখরুদ্দিন রাজি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট পারভেজ হোসেন, ভোলা জেলার জামায়াতের আমীর মাষ্টার জাকির হোসেন, সেক্রেটারি মাও হারুনুর রশীদ,ভোলা- ৪ জামায়াত প্রার্থী মাওঃ মোস্তফা কামাল ও জামায়াত সহ এগারো দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।