বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে গতকাল শনিবার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান-এর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, লস্কর মোহাম্মাদ তসলিম, মজিবুর রহমান ভূইয়া, মনসুর রহমান প্রমুখ। সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যার ব্যপারে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে অবহিত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিক সমাজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তারা দেশের শিল্প, উৎপাদন ও সেবাখাতের মূল ভিত্তি, এবং তাদের সুষ্ঠ ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শ্রমিকরা শুধু শ্রমই দিয়ে না, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের অবদান রাখে। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্য এক অভিন্ন দায়িত্ব। আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, যাতে শ্রমিক সমাজের কল্যাণে বাস্তবিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে দেশের শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় ফেডারেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সংগঠন শ্রমিক সমাজকে সংগঠিত করার মাধ্যমে তাদের শক্তি ও দাবিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করছে। আগামী ১১ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন শুধুমাত্র একটি সাধারণ অনুষ্ঠান নয়, এটি শ্রমিক সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন শক্তি ও গতি সঞ্চার করবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন, সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে এবং দেশব্যাপী শ্রমিক সমাজের সুসংগঠিত আন্দোলনকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আসন্ন জাতীয় সম্মেলনের গুরুত্ব তুরে ধরে আরও বলেন, এই সম্মেলন শ্রমিক সমাজের কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের পথে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে। শ্রমিকরা শুধু তাদের ব্যক্তিগত কল্যাণের জন্য নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক সমতার জন্যও ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে। এতে দেশের শ্রম বাজারে ন্যায্যতা, নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থি’তিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।