গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও উত্তেজনা রোববার সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। মজিবুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল ও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। সেই উত্তেজনা রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকা অস্থির হয়ে পড়ে।

রোববার সন্ধ্যায় মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইসরাক সিদ্দিকীর সমর্থকেরা পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিতে শুরু করলে হঠাৎই প্রতিপক্ষ সাইজুদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন এবং নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ইসরাক সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন-এই আসনের মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমানের অনুসারীরা আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজনকে হাতে নাতে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র, দাবি করেন আমাদের কর্মীরা ওই এলাকায় নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছিল। হঠাৎই দুষ্কৃতিকারীরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়, মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং আগুন দেয়।

সংঘর্ষের পর ঘটনাটি দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মৌচাক ইউনিয়ন ও কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে পড়ে মার্কেটবাজার বন্ধ করে দেয়।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোঃ শামীম বলেন- দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন জানান- দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৪ ডিসেম্বর মজিবুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক প্রার্থী থাকা এবং তৃণমূল কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে। এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।