বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, জণগণকে সাথে নিয়ে আমরা এখন দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা এখন দেশকে খাদ্যে সাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমাদের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমাদের মা বোনদেরকে শিক্ষিত এবং তার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু এই কাজগুলো করতে এই দেশের যে মালিক জনগণ, তাদের সহযোহিতা ছাড়া করা সম্ভব নয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বেলা বারটায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড়মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় যারা দেশে জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগকে কখনো বৃথা যেতে দেয়া যায় না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার নির্বাচন নয়। এবারকার নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ যেমন তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রয়োগ করতে পারে নাই, তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নাই। একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত অধিকার থেকেও অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। দেশে সঠিক পরিমাণে আমাদের তরুণ যুবকদের যে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল সে ব্যবস্থা হয়নি। নারীদের যেভাবে মূল্যায়ন করার কথা ছিল সেটি হয়নি। দেশের কৃষকদের যে সহযোগিতা করার কথা ছিল সে কাজটিও করেনি বিগত স্বৈরাচার সরকার।
তিনি আরো বলেন, আজ সময় এসেছে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করব, একইভাবে আমরা দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দিব। দেশর মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী, এই নারীকে যদি আমরা আমাদের কর্মের সাথে সম্পৃক্ত করতে না পারি তাহলে কোনভাবেই দেশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আপনারা দেখেছেন দেশনেত্রেী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি নারীদের উচ্চশিক্ষা বিনা মূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ লক্ষ লক্ষ নারী শিক্ষিত হয়েছেন। এই মা বোনদেরকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এই জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে গৃহীনীদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌছে দিতে চাই। এই কার্ডের অধিকারী হবেন এই দেশের মায়েরা, দেশের নারীরা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে তাদের কাছে সহযোগিতা পৌছে দিতে চাই, যার মাধ্যমে তারা স্বাচ্ছন্দে সংসার চালাতে পারেন। একই সাথে আমরা আমাদের কৃষক ভাইদের কাছে কষি কার্ড নামে একটি কার্ড পৌছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে তারা সহজে ঋন পাবে, সার, বীজ, কীটনাশক, ফসলের বীজ পাবে। শুধু তাই নয়, সারা বাংলাদেশে কৃষকদের যে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত যে কৃষি ঋন আছে তা, আমরা মওকুফ করতে চাই। সেই সাথে বিভিন্ন এনজিওর ক্ষুদ্র ঋনও আমরা পরিশোধ করতে চাই।
এদেশে কোন ধর্মীয় পরিচয় থাকবে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। এখানে সকলের সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে। কে কোন ধর্মের অনুসারী এটি তার পরিচয় হবে না। এখানে ব্যক্তির যোগ্যতাও দক্ষতা দিয়ে তার পরিচয় নির্ধারণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড় যেহেতু কৃষি প্রধান এলাকা তাই আমরা চাই, এই এলাকার মানুষ যাতে স্বলম্বী হতে পারে যে জন্য কৃষকদের সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি, কৃষি ভিত্তিক যত শিল্প আছে সকল শিল্প এই এলাকার মধ্যে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। শুধু তাই নয়, এই এলাকার বহু তরুণ যুবক আছে যাদের কাছে শিক্ষার আলো আছে। তাই আমরা ঠিক করেছি তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে তারা দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
এসময় উপস্থিত জনগণের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তারেক বলেন, আপনাদের সমর্থন পেলে আমরা আমাদের পরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়ন করতে পারব। এলাকার মানুষের বিভিন্ন দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে, ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ স্থাপন ও বন্ধ বিমান বন্দর পুনরায় চালু করণসহ না না উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সমাবেশে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এলাকার বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সাথে নিয়ে উপস্থিত জনতার কাছে ধারে শীষে ভোট চান তারেক রহমান।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলসগীর, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।