আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষে ভোলা-৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহা. নিজামুল হক নাঈম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ৯ দফাভিত্তিক এই নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন। নিজামুল হক নাঈম বিডিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঐক্য–সম্প্রীতিপূর্ণ, উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ লালমোহন–তজুমদ্দিন গড়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নিজামুল হক নাঈম বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও মানুষের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের যে আকাঙ্ক্ষা রয়ে গেছে, তা বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়। নদীভাঙনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে কৃষি ও মানবসম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে লালমোহন–তজুমদ্দিনকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ জনপদে পরিণত করতে চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সহাবস্থানের ভিত্তিতে উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহারের ৯ দফা প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—
চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সুশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা; নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করে নদীভাঙনমুক্ত নিরাপদ উপকূল গড়ে তোলা; ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণে ভূমিকা রাখা, ভোলা–চরফ্যাশন সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, উপজেলার প্রধান সড়ক দুই লেনে উন্নীত করা এবং ভোলায় বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ গ্রহণ।
এছাড়া মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জেগে ওঠা চরগুলোর উন্নয়ন, জমির ন্যায্য বণ্টন, চুরি–ডাকাতি নির্মূল, শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন, শিক্ষা ব্যয় হ্রাস, ভোলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সম্মানী ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যখাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকীকরণ, আইসিইউ বেড ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিতকরণ, ইউনিয়নভিত্তিক ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং দুর্গম চরাঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ইউনিট চালুর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
পাশাপাশি তিনি মাদক, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, স্বাধীন গণমাধ্যম বিকাশে সহায়তা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে ভোলাকে একটি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
ইশতেহারের শেষে তিনি পাঁচটি বিষয়ে ‘না’ এবং পাঁচটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ঘোষণা করেন।
‘না’—চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, বেকারত্ব ও আধিপত্যবাদ।
‘হ্যাঁ’—ঐক্য, ইনসাফ, সততা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান।
নিজামুল হক নাঈম বলেন, “সুন্দর আগামীর পথে আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব। দুর্নীতিমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ মানবিক লালমোহন–তজুমদ্দিন গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।”