সম্প্রতি অফিস খুলে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার অপচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতি প্রদান করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ দল। তাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ এখতিয়ার নেই। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও কতিপয় নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা থেকে মুক্তি, নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। তাদের এই ধরনের বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ দলটি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষত, শাসক দলের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ তাদের প্রত্যাশাকে উস্কে দিচ্ছে। আমি সরকারের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতায়’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের দলীয় অফিস খুলে জয়বাংলা স্লোগান দিচ্ছে এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। ফলে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দেশে আবারো অতীতের জুলুম-নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
তিনি এব্যাপারে দেশবাসীর সামনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য জোর দাবি জানান। দেশের শান্তি, আইনশৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া জাতির জন্য আত্মঘাতি ছাড়া আর কিছু নয়। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের অঙ্গীকার এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সর্বস্তরের জনগণকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সতর্ক, সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না
করার আহ্বান জামায়াতের
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে ভুয়া নাম প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দের স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়রা নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাচ্ছেন- যা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। আমরা মনে করি, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির হীন উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত সংগঠন। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নসহ সংগঠনের সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়। এখানে আত্মীয়তা বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই।
আমরা দেশবাসীকে অবহিত করতে চাই যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ গঠনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং মহিলা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হবে। অতএব, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশবাসীকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
সাংবাদিক নির্যাতনের নিন্দা জামায়াতের
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের গুরুতরভাবে আহত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতি প্রদান করেছেন।
প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সাংবাদিকদের উপর পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনায় অন্তত তিন জন সাংবাদিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকগণ হলেন তোফায়েল (বাংলা নিউজ), আকাশ (এনপিবি নিউজ) ও কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, আহত সাংবাদিকরা সাধারণত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঘটনা লাইভ সম্প্রচার করছিলেন, যা গণমাধ্যমের মৌলিক স্বাধীনতা ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার। পুলিশি হস্তক্ষেপে তাঁদের উপর অযাচিত সহিংসতা চালানো কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা সকলকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, সাংবাদিকতা হলো জনগণের স্বার্থে সত্য তথ্য প্রকাশ করার পেশা এবং তা কোনোভাবেই নির্যাতনের মাধ্যমে দমন করা যায় না। আমি সরকারের নিকট সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানের জোর দাবি জানাচ্ছি। আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষী পুলিশকর্মীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে চাঁদা না পেয়ে
ঠিকাদারকে নির্যাতনের নিন্দা জামায়াতের
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে নির্যাতন চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গত শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকার ঠিকাদার নিজাম উদ্দিনকে ইফতারের পর মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে আটক করে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে ৪/৫ ঘণ্টা ঝুলিয়ে নির্যাতন চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমি এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার জনাব নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি ফয়েজ আহমেদ শাহিন কিছু দিন যাবৎ তার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ফয়েজ আহমেদ শাহিন ও তার ক্যাডার বাহিনী তাঁকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর মসজিদ থেকে ধরে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে উলটো করে ঝুলিয়ে ৪/৫ ঘণ্টা নির্যাতন চালায়। ফলে তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা হাসনাবাদ পোস্তগোলা ব্রিজের নীচের রাস্তায় তাঁকে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনার দ্বারাই বুঝা যাচ্ছে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আবার দেশে নতুনভাবে চাঁদাবাজি, জুলুম-নির্যাতন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দেশ আবার দ্রুত নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের দিকে জোর কদমে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশবাসী সকলেই অবগত আছেন যে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিলো সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়া। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসেই আবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের দেখানো পথেই অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা আওয়ামী লীগের পতন থেকে কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেনি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য আমি সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।