ঠাকুরগাঁও সদর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, বিএনপির নেতারা কথায় কথায় জামায়াতকে রাজাকারের দল হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব গল্প বলে জাতিকে বোকা বানানো যাবে না; বাংলাদেশের জনগণ ইতিহাস জানে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দানারহাট ফাজিল মাদরাসা ঈদগাঁ মাঠে আয়োজিত দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পর সরকার যখন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে বিএনপির রাজাকারের সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার, আর জামায়াতে ইসলামীর নাম ছিল মাত্র ৩৪ জনের। সুতরাং রাজাকারের দল হিসেবে বিএনপিরই জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত, এরপর তারা ভোট চাইতে পারে।
একই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে সম্মান করি। কিন্তু আপনারা যেভাবে মিথ্যাচার করছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ তা বিশ্বাস করে না। এমনকি মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে, আপনার বাবার নামও রাজাকারের তালিকায় ছিল।’
চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জাতি আশা করেছিল তারা এসব অপশক্তির হাত থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, লুটতরাজ ও মামলা বাণিজ্য চলত, এখনো তা অব্যাহত রয়েছে—শুধু হাত বদল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সকল ধরনের অপকর্ম কঠোর হাতে দমন করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার কিংবা সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের ওপর জুলুম-নির্যাতন হতে দেওয়া হবে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে একটি আদর্শ ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ ও কীটনাশক নিশ্চিত করা হবে এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম আদায় করা হবে। নারীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ফিরে পাবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সমাজের সর্বস্তরে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
জামায়াত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।