মবসন্ত্রাস ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে শঙ্কিত তারেক রহমান। গতকাল রোববার বিকেলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। সাইফুল হক বলেন, সাক্ষাতে তারেক রহমান মানুষের মধ্যে শান্তি, সোহার্দ্য সৃষ্টির বার্তা দিয়েছেন। দেশকে ঐক্য ও সংহতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তারেক রহমান।

গতকাল বিকালে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইতে স্বাক্ষরের পর তারা তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পরে সাইফুল হক বলেন, আমরা বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে দেখা করে আমাদের দলের সাত্বনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছি। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি এবং এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা যাতে নিশ্চিত করা যায় সেটি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই আলোচনায় নির্বাচনের নানা বিষয় এবং ৩১ দফার রাষ্ট্র কাঠামো রুপান্তরের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, মবসন্ত্রাস ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে শঙ্কিত তারেক রহমান। মানুষের মধ্যে শান্তি, সোহার্দ্য সৃষ্টির বার্তা দিয়েছেন তিনি। দেশকে ঐক্য ও সংহতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তারেক রহমান।

সাক্ষাতের সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খানসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, নির্বাচন পরিচালনার জন্য নেওয়া গুলশানে বিএনপির অফিসে বিকেল ৫টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিষয়ক কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সারদেশে দলের যে সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়েও আেলাচনা য়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এ ছাড়া প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠু, সংগঠিত ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল নেতাদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। কারণ দেশের মানুষ গত দেড় দশক ধরে ভোট দিতে পারেনি। তাই আসন্ন নির্বাচনকে বহুল কাক্সিক্ষত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই নির্বাচন আমাদের দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের ফসল। এই নির্বাচন আমাদের বহু কাক্সিক্ষত একটি নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর ভোট দিতে পারে নাই। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারে নাই। আমরা আশা করছি যে, এবার জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের দ্বারা তাদের সরকার পাবে। যে সরকার তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। কাজেই এই নির্বাচনটা যাতে অবাধ-সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়। এই নির্বাচনে যেন সত্যি সত্যি আমাদের জনগণ তাদের মত প্রকাশ করতে পারেন। সে লক্ষ্যেই আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের কাজ। এজন্য আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সভায় কীভাবে শান্তিপূর্ণ অবাধ এবং সুষ্ঠু একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা ভূমিকা পালন করতে পারব, সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপিই সেই প্রধান সংগঠন যারা বরাবর যথাসম্ভব দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাবি জানিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। সেজন্য বিএনপি তাড়াতাড়ি নির্বাচন চায়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসাবে অবশ্যই বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেই কারণে আমরা নির্বাচন চাই নাই। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা স্বৈরাচারী তথা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন চেয়েছি। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেয়েছি।

এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক কি না? কারণ আটটি দল অংশ নিচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে বিরোধী প্রার্থীদের আবেদন বাতিলে আপনারা কনসার্ন কি না? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে যদি মনোনয়নপত্র বাতিল হয় হতেই পারে। আমাদের বিএনপিরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তো সেখানে আপত্তি জানানোর সুযোগ আছে, সময় আছে। তারা নিশ্চয়ই আপত্তি জানাবেন এবং তার ভিত্তিতে হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে। আমরা মনে করি এই মুহূর্তে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে আয়োজন সেখানে যাদের রাজনৈতিক তৎপরতার উপর কোনো বিধিনিষেধ নাই তাদের কারও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধা নাই। এখন এটা তাদের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুরুষ এবং নারীরা বাসায় গিয়ে একটি বিশেষ দলের পক্ষে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঘরে ঘরে কোনো দলের প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করাটা দোষের ব্যাপার না।

আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যতটুকু জানি যে, বিএনপির পক্ষ থেকে কোথাও কোনো সরকারি অফিসে কাউকে এই অনুরোধ করা হয় নাই যে, অমুকের মনোনয়নপত্র বাতিল করব। আর বললেই বা তারা করবে কেন? তাদের তো করার কথা না। তারা তো সরকারি কর্মকর্তা, দলের কর্মী না তারা।

এ সময় ড. মাহাদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি একটা অবাধ-সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে এবং এমন সরকার আসবে যারা সত্যি সরকারের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে থাকবে মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন।

তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাব ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি ও দেশের শীর্ষ ব্যবাসয়ীরা। সাক্ষাৎকালে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসাথে পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এসময় তারেক রহমানও সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য– কবি আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, কেএম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য আতিকুর রহমান রুমন।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল রাতে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মীর নাসির হোসেন (সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআই), আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (সভাপতি, বিসিআই), মোহাম্মদ হাতেম (সভাপতি, বিকেএমএ), মতিন চৌধুরী (সাবেক সভাপতি, বিটিএমএ), কামরান টি. রহমান (সভাপতি, এমসিসিআই), মইনুল ইসলাম স্বপন (সভাপতি, বিএসএমএ), আব্দুল হাই সরকার (সভাপতি, ব্যাবি), সিমিন রহমান (নির্বাহী সদস্য, আইসিসি বাংলাদেশ ও সিইও, ট্রান্সকম গ্রুপ), মতিউর রহমান (চেয়ারম্যান, উত্তরা মটরস কর্পোরেশন লিমিটেড), আমিরুল হক (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিকম গ্রুপ), ফজলুল হক (সাবেক সভাপতি, বিকেএমইএ), প্রীতি চক্রবর্তী (সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিসিআই), এ কে আজাদ (সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআই), আজিজুল কায়সার টিটু (পারটেক্স গ্রুপ), জাহাঙ্গীর আলম (সভাপতি, স্টিল মিল মালিক সমিতি), মাহবুবুর রহমান (সভাপতি, আইসিসি বাংলাদেশ), মাহমুদ হাসান খান (সভাপতি, বিজিএমইএ), শওকত আজিজ রাসেল (সভাপতি, বিটিএমএ), তাসকিন আহমেদ (সভাপতি, ডিসিসিআই), শাহরিয়ার (সভাপতি, বিজিএপিএমইএ), আব্দুল মুক্তাদির (সভাপতি, বিএপিআই), তপন চৌধুরী (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্কয়ার গ্রুপ), মোস্তফা কামাল (চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ), আহসান খান চৌধুরী (চেয়ারম্যান ও সিইও, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ), আলী হুসাইন আকবর আলী (চেয়ারম্যান, বিএসআরএম), কুতুবউদ্দিন আহমেদ (সাবেক সভাপতি, বিজিএমইএ), ফজলে শামীম এহসান (সভাপতি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন), নাহিদ কবির (সাবেক সভাপতি, এমসিসিআই), হোসেন খালেদ (সাবেক সভাপতি, ডিসিসিআই) এবং শরীফ জহির (চেয়ারম্যান, ইউসিবিএল)।

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।