আজকের শিক্ষার্থীরাই অগামী দিনের জাতির কর্ণধার; তাই সুখী, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনে এবং চলমান শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন প্রজন্মকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
গতকাল বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা আয়োজিত দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা সভাপতি মু. আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রক্তব্য রাখেন শিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক মুহাম্মদ আরমান পাটওয়ারী। এছাড়াও জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষা সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের অদ্বিতীয় মাধ্যম। আর শিক্ষা শুধু ডিগ্রি বা সনদ লাভের জন্য নয়; বরং একটি আদর্শ জীবন গঠনের অনিবার্য অনুষঙ্গ। শিক্ষার্থীদের মেধার সাথে যদি নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধের সংমিশ্রণ না থাকে, তাহলে সে শিক্ষা সমাজের জন্য ইতিবাচক হওয়ার পরিবর্তে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। মূলত, মূল্যবোধহীন শিক্ষা অন্তঃসারশূন্য। আর আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তাই তাদেরকে জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে দেশপ্রেম, মূল্যবোধের চর্চা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আর এ ক্ষয়িষ্ণু সমাজকে আলোর পথে ফিরে আনতে তাদেরকেই অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে শিক্ষার্থীদের যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিশক্তির পতন হলেও পরিপূর্ণ বিজয় এখনো আসেনি বরং পতিতদের প্রতিভুরা দেশকে অস্থিতিশীল করে অর্জিত বিজয় বিতর্কিত, নস্যাৎ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য নানাবিধ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। সঙ্গত কারণেই দেশে এখনো লাগামহীন চাঁদাবাজী বন্ধ হয়নি। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় ইতিবাচক হলেও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। স্বৈরাচারের পতনের পর অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসলেও এখনো তা মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মূলত, অতীতে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া ও সুশাসনের অভাবেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণেই এবারের ঈদ অন্য বারের তুলনায় স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তাই জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে এজন্য কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি পবিত্র ঈদুল আযহার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ আরমান পাটওয়ারী বলেন, ‘একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণদের উপর। তোমরা আজ যে কৃতিত্ব অর্জন করেছো, তা শুধু ব্যক্তিগত নয় বরং এটি দেশ ও জাতির জন্য আশার আলো। তোমাদের মধ্যে থেকেই ভবিষ্যতের দক্ষ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে- ইনশাআল্লাহ।
সভাপতির বক্তব্যে মু. আবদুর রহমান বলেন, ‘এ সফলতার মুহূর্ত হোক আরও বড় স্বপ্ন দেখার প্রেরণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কেবল পড়ালেখায় নয়, আদর্শ, সততা ও মানবিক গুণাবলীরদ নিজেকে সমৃদ্ধ করা জরুরি। আর এতেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা’।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক উপহার প্রদান করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।