# ঢাকার ২০ আসনে ২৫ জন সরে যাওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থী থাকলেন ১৩৭ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল কাল। ৩০০ আসনে প্রার্থীতা চূড়ান্ত হয়েছে। ঢাকার ২০ আসনে ২৫ জন সরে যাওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থী থাকলেন ১৩৭ জন। সারাদেশের তথ্য আজ জানা যাবে বলে ইসি জানিয়েছে। আজ এসব প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বিতরণ করা হবে। কাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। কিন্তু প্রচারণা শুরুর আগেই চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক। একের পর এক পাল্টা পাল্টি অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। এদিকে নির্বাচন কমিশন কিছু সংখ্যক অভিযোগের বিষয়ে শোকজ ও জরিমানা করেছে। তবে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির বিষয়ে নানা প্রশ্ন রয়েই গেছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরে আপিলের সুযোগে ইসিতে জমা পড়ে ৬৪৫টি আবেদন। আপিল শুনানি শেষে ৪২০ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বৈধ হলেও আপিলে ছয় জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। গতকাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে আজ চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা জানা যাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ শুরু করেছে ইসি। এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই কেন্দ্রে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে পোস্টাল ব্যালট গণনা কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনে প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন, যেখানে ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি। ভোট গ্রহণ সহজ করতে প্রতিটি ভোটকক্ষে গোপনকক্ষের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বড় সমাবেশ না করলেও আচরণবিধিকে তোয়াক্কা না করে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দলগুলোর নেতাকর্মীরা। প্রকাশ্যে এমন পরিস্থিতি চললেও নির্বাচন কমিশন যেন নীরব। শোকজ ও সামান্য জরিমানার বাইরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ তেমনটা চোখে পড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও আন্তরিকতা নিয়ে জনমতে প্রশ্ন উঠেছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে যাদের শোকজ কিংবা জরিমানা করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই দলীয় প্রার্থী। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও আছেন তালিকায়। এদের কাউকে কাউকে সামান্য আর্থিক দ-ও দেওয়া হয়েছে। ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ অনুসন্ধান করার পাশাপাশি নানা অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
প্রচারণা শুরুর আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক
জানা গেছে, নিয়মের বাইরে গিয়ে রঙিন পোস্টার ব্যবহার, মোটর শোভাযাত্রা, জমায়েত করে ভোট চাওয়া কিংবা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এর বাইরেও সামাজিক নানা কর্মসূচির আড়ালে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে প্রতিনিয়ত। কোথাও আবার ওয়াজ-মাহফিলেও ভোট চাওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতীকসহ পোস্ট বা লিফলেট বিতরণের অভিযোগে কিছু এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধ নিয়ে আরপিওতে বলা হয়েছে: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীর বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানা, তাৎক্ষণিক দ-, প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ আছে। এতে বলা আছে, আচরণি বিধিমালায় উল্লিখিত কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে তা নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদ- অথবা অনধিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ- দেওয়া যাবে। আর দলের ক্ষেত্রে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান আছে। একইসঙ্গে অপরাধ গুরুতর হলে নির্বাচনী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও দেওয়া আছে।
আচারণবিধি লঙ্ঘন হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। তারা জরিমানা, অল্প সময়ের জন্য দ- দিতে পারেন। এছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মূলত নির্বাচনের সময় নির্বাচনী তদন্ত কমিটির অংশ হিসেবে কাজ করেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শোকজ করে, শুনানি শেষে ইসিতে প্রতিবেদন জমা দেন। অপরাধ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাও কখনো কখনো ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। আর প্রার্থিতা বাতিল কিংবা বড় অংকের জরিমানার ক্ষেত্রে প্রতিবেদনের আলোকে ইসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
বিএনপির অভিযোগে জামায়াত-এনসিপিসহ ৪ দলকে ইসির সতর্কবার্তা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে নামায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চারটি রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রধানদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সতর্কবার্তা পাওয়া অন্য দুই দল হলোÑ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
ইসি সূত্র জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, ২১ জানুয়ারির আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ চারটি দল আইন অমান্য করে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে, যা ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিএনপির ওই অভিযোগ পর্যালোচনা করে সত্যতা পাওয়ায় দলগুলোর প্রধানদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দলগুলো প্রচারণা চালিয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত। নির্ধারিত সময়ের আগে সব ধরনের প্রচারণা হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রধান ও দায়িত্বরতদের নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট সময় আগ পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ থাকলেও তার আগে গণসংযোগ বা প্রচারণায় আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকার ২০ আসনে ২৫ জন সরে যাওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থী থাকলেন ১৩৭ জন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে যে ১৬২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল, তাদের মধ্যে ২৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ফলে ঢাকার ২০ আসনে ১৩৭জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। সোম ও মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়।
সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১৯ জন, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ২ জন এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ৪ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা তাহজীব হাসান হৃদম জানান, ঢাকা-১৮ আসনে গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত বিলকিস নাসিমা রহমান সোমবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। বাকিরা করেন মঙ্গলবার। ফলে ঢাকার ২০ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী থাকলেন ১৩৭ জন।
ভোট থেকে সরে গেলেন যারা
ঢাকা-১: খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-৫: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির এস এম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী। ঢাকা-৬: আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির। ঢাকা-৭: জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির তারেক আহম্মেদ আদেল। ঢাকা-৯: খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ। ঢাকা-১০: খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল। ঢাকা-১২: বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। ঢাকা-১৩: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন। ঢাকা-১৫: গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম। ঢাকা-১৬: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক। ঢাকা-১৭: খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক। ঢাকা-১৮: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)। ঢাকা ১৯: খেলাফত মজলিসের একে এম এনামুল হক, জামায়েতে ইসলামীর আফজাল হোসাইন। ঢাকা ২০: জামায়েত ইসলামীর আব্দুর রউফ।
ইসি কী করছে জানতে চায় সুইডেন, বুধবার জানা যাবে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে সুইডেন। জবাবে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, আপিল শুনানি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার রোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত ও ফার্স্ট সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সচিব জানান, ঢাকাস্থ সুইডিশ রাষ্ট্রদূত ও ফার্স্ট সেক্রেটারি মূলত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ইসির প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে এসেছিলেন। আমরা কমিশন কর্তৃক গৃহীত প্রস্তুতিসহ সম্প্রতি শেষ হওয়া আপিল শুনানির পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের জানিয়েছি। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মিস-ইনফরমেশন’ (ভুল তথ্য) এবং ‘ডিস-ইনফরমেশন’ (অপপ্রচার) ইসি কীভাবে হ্যান্ডেল করছে, সে বিষয়ে তারা গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বৈঠকে সুইডেনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সচিব বলেন, নির্বাচনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, তা তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, সারাদেশ থেকে তথ্যগুলো আসার পর সেগুলো কম্পাইল করতে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। ফলে কতজন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন, সেই সঠিক পরিসংখ্যানটি আগামীকাল (বুধবার) জানা যাবে।
নির্বাচন কমিশন আগামী ২৫ জানুয়ারি নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে একটি বড় ধরনের প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করবে বলেও জানান সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বিএনপি-জামায়াতের ৮ নেতাকে নিরাপত্তা দিতে বলল ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গাজীপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ইসির চিঠিতে জানানো হয়, গাজীপুর-১ সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত তার জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অপর এক চিঠিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দলের ৭ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরও উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (সাবেক এমপি), নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার (সাবেক এমপি), নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (সাবেক এমপি), সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি) ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
ইসি জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই দাপ্তরিক নির্দেশনা পাঠানো হলো।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গাজীপুর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ হোসেন আলী এবং গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. জাহাঙ্গীর আলম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একই দিনে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় জেলার নির্বাচনী সমীকরণে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৫০ জন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মোট ৮ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে পাঁচ আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। এর মধ্যে গাজীপুর-২ আসন থেকে সর্বাধিক ৪ জন, গাজীপুর-৩ আসন থেকে ২ জন, গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-৫ আসন থেকে ১ জন করে প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। গাজীপুর-৪ আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
গাজীপুর-৩ আসনে ড. জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, তিনি আমীরে জামায়াতের নির্দেশনায় জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বল্প সময়েই যে আস্থা ও ভালোবাসা পেয়েছেন তা আজীবন স্মরণে থাকবে। বৃহত্তর স্বার্থ, ঐক্য ও জোটগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন আনুগত্যই কল্যাণের পথ। তিনি আরও বলেন, তিনি গাজীপুরের মানুষের পাশে আগের মতোই থাকবেন এবং ব্যক্তিগত জয় নয়, জনগণের ও জাতীয় বিজয়ই তাদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে গাজীপুর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ হোসেন আলী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন এবং সংগঠনের আস্থা ও মানুষের ভালোবাসা নিয়েই সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করে এসেছেন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহত্তর ঐক্য ও জোটের স্বার্থে আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক সমর্থন তৈরি হয়েছে। তিনি গাজীপুর-২ আসনের টঙ্গী পূর্ব, টঙ্গী পশ্চিম, গাছা, সদর মেট্রো ও রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবেন এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে একযোগে কাজ করবেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে অবশিষ্ট ৪২ জন বৈধ প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। জামায়াতের দুই প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো ও ঐক্যের আহ্বান গাজীপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে ইতিবাচক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক চর্চার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে এ আসনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার মঙ্গলবার বিকেল ৪:৩০ মিনিটে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন অধ্যাপক ফজলুল করিম।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল সংগঠন। কেন্দ্রীয় ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। এ বিষয়ে কোনো অনুযোগ বা হতাশা নেই। প্রার্থী যেই হোক ন্যায় এবং ইনসাফ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠার পক্ষে যারাই কাজ করবে আমরা তার সাথে আছি।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পাবার পর থেকে দীর্ঘ প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় মুন্সিগঞ্জের অলিতে গলিতে প্রচারণা চালিয়েছি, মানুষের সাথে মিশেছি। চেষ্টা করেছি প্রতিটি ওয়ার্ডে যাওয়ার, প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছানোর। কতটুকু পেরেছি জানিনা কিন্তু যাদের কাছে গিয়েছি তারা আমাকে যেভাবে কাছে টেনে নিয়েছে, সমর্থন দিয়েছে, ভালোবেসেছে ও সাহস যুগিয়েছে তাতে আমি সত্যিই অভিভূত এবং নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এই এলাকার দায়িত্বশীলরা এবং সাধারণ মানুষেরা খেয়ে না খেয়ে রাত-দিন একাকার করে আমার জন্য যে অমানবিক পরিশ্রম করেছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ।
খুলনা ব্যুরো : খুলনার ৬ টি আসনে মোট বৈধ প্রাথী ছিল ৪৩জন। তারমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। খুলনা জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও খুলনার জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার এ তথ্য জানান। তারা হলেন, খুলনা -১ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, খুলনা-২ থেকে খেলোফত মজলিসের মোঃ শহিদুল ইসলাম, খুলনা-০৩ বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের হারুনুর রশীদ, খুলনা-০৪ এ জামায়াত প্রাথী মোঃ কবিরুল ইসলাম, খুলনা -৫ বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার।
জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা যায়, খুলনা - ৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) জোটের শরীক দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এস এম সাখাওয়াত হোসাইনকে ছাড় দিয়েছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ কবিরুল ইসলাম প্রত্যাহার করেছেন। কে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে এখন ৬টি আসনে ৩৮ জন বৈধ প্রাথী নির্বাচনী দৌড়ে টিকে থাকলেন।
ঝালকাঠি : ঝালকাঠি ২ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী শেখ জামাল ১০ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমকে সমর্থন দিয়ে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের হলরুমে এবি পার্টির প্রার্থী শেখ জামাল কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মোঃ হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর এডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হাই, এনসিপি নেতা জেলা সভাপতি মোঃ মাইনুল ইসলাম মান্না, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী শেখ জামাল হোসেন বলে, দলের নির্বাহী কমিটির নির্দেশক্রমে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম কে সমর্থন দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম কে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে চাই।
এ সময় শেখ নেয়ামুল করিম এবি পার্টির সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ১০ দলীয় ঐক্য এক বাক্সে ভোট দিয়ে ইসলামী দল ও জুলাই চেতনায় বিশ্বাসীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ ্ও হোসেনপুর সংবাদদাতা:
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ১০ দলের জোট প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদীকে সমর্থন জানিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর দাড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক মোছাদ্দেক আলী ভূঞা।
জানাযায়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তক্রমে ১০ দলের প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। অধ্যাপক মোসাদ্দেক ভুঁইয়া জানান, মামুনুল হকের রিকশাকে দাঁড়িপাল্লা মনে করে বিজয়ী করবে জামায়াতের ভোটারসহ সবস্তরের জনতা।দেশ ও জাতির কল্যাণে জামায়াতে ইসলামীর এ সেক্রিফাইস আশা করি ইতিবাচক হিসেবেই মূল্যায়ন করবেন বাংলার মানুষ।
চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মোশারফ হোসেন তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান এর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হয়। ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি একই আসনে জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সোলাইমান খাঁন কে সমর্থন জানিয়েছেন।
এতে এই আসনে প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন ৪জন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আতিকুল আলম, ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাও. সোলাইমান খাঁন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাও. এহতেশামুল হক।
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে দুই প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ মুসা এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী কফিল উদ্দীন চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
১০ দলীয় জোটের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জোটগত রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই জোটের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।