সিরাজগঞ্জে জামায়াতের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে দুই নারীকে হেনস্তা এবং প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থী মো. সাদ খান নিরাপত্তা শঙ্কায় এলাকা ছাড়ার কথা জানিয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে সাদ খান দাবি করেন, তিনি ভোট দিতে বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু হামলার ঘটনার পর এক কাপড়েই ঢাকা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ফেসবুক পোস্টে সাদ খান লিখেছেন, দুপুরের দিকে বাড়ির উঠানে শিশুদের সঙ্গে খেলছিলেন। এ সময় চিৎকার শুনে রাস্তার দিকে গেলে দেখেন, তার দুই ফুপিকে কয়েকজন ব্যক্তি আটকে রেখেছেন। অভিযোগ ছিল, তারা জামায়াতের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তিনি বয়স্ক দুই নারীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং বলেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে।
তার দাবি, এ সময় উপস্থিত কয়েকজন তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তাকে কলার ধরে টেনে নেওয়া হয়। তিনি সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন ধাওয়া করে তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। তার ছোট ভাই ও চাচাতো ভাইকেও আঘাত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এক চাচাতো ভাইয়ের চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলেও উল্লেখ করেন।
সাদ খান জানান, পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে একটি বাসায় আশ্রয় দেন। তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে বলে দাবি করেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় তিনি ও তার ভাই এলাকা ছেড়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।