বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া শহর শাখার উদ্যোগে এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার আব্দুল ওয়াহাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক জনাব মোঃ মোবারক হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোবারক হোসাইন সাম্প্রতিক জাতীয় পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তিনি আলোচিত শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দেয়। অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস না পায়।”

তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সমালোচনা করে বলেন, “জনগণের জানমাল রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।”

এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উত্থাপন করেন।

মোবারক হোসাইন জুলাই-২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের প্রতীক। ইতিহাসকে অস্বীকার বা মুছে ফেলার কোনো চেষ্টা জাতি মেনে নেবে না।”

চট্টগ্রামে ২৪-এর স্মৃতিচিহ্ন ও প্রতীকী চিত্রাঙ্কনে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা ২৪-এর স্মৃতি ধারণে বাধা দেয়, তারা মূলত ইতিহাসকে আড়াল করতে চায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “২৪ না হলে আজ অনেক রাজনৈতিক বাস্তবতাই তৈরি হতো না। অথচ এখন কেউ কেউ সেই আন্দোলনের অবদান অস্বীকার করতে চায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২৪-এর চেতনার সাথে ছিল, আছে এবং থাকবে।”

জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হাম প্রায় মহামারির রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু সরকারের কার্যকর প্রস্তুতি ও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতির প্রতিটি সংকটে দায়িত্বশীল ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। হামসহ সংক্রামক রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, টিকাদান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোবারক হোসাইন বলেন,

“রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের কল্যাণে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার শতভাগ সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়মমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে নৈতিক নেতৃত্ব অপরিহার্য।”

তিনি কর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “আদর্শ, নৈতিকতা ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনই আমাদের অঙ্গীকার।”

কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমীর মোঃ এনামুল হকের সভাপতিত্বে শহর জামায়াতের সেক্রেটারী শামীম হুসাইনের পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ.কে.এম আলী মুহসীন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল গফুর, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার এবং জেলা জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন।

এসময় কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।