স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-৫ আসনে ভোটের পরিবেশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রকাশ্য হুমকি, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী মাঠ দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন, আদালত ও যৌথ বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পাশাপাশি রাজপথে নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে বিন্দান মাদ্রাসা মসজিদের প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিন্দান উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ইসলামী রাজনীতিকে দমন করতে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পূবাইল থানার বিন্দান উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক)-এর ব্যানার লাগাতে গেলে বিএনপির পূবাইল থানা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির সরকার, যুবদল নেতা আনোয়ার মোড়ল ও আরমান মোল্লাসহ ৮-১০ জন ব্যানার লাগাতে নিষেধ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ব্যানার লাগালে 'পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া হবে'এমন ভয়ংকর হুমকি দেওয়া হয় এবং বলা হয়, 'এই এলাকা জাকির জমিদারের এলাকা, এখানে দাঁড়িপাল্লার কোনো ব্যানার চলবে না।' এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাদুরতলা ব্রিজ থেকে বিন্দান উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত জামায়াতের সব ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং এরপরও নেতাকর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকি অব্যাহত থাকে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানা শাখার পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বরত যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের কর্মকর্তা, কালিগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও যৌথ বাহিনী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। আদালতে দাখিল করা অভিযোগে জামায়াতের পূবাইল থানা নায়েবে আমীর মোঃ শামীম হোসেন মৃধা বলেন, এসব ঘটনা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও নির্বাচন আচরণবিধিমালা (সংশোধিত-২০২৩) অনুযায়ী গুরুতর নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম, যা প্রার্থী ও কর্মীদের জানমাল, নিরাপত্তা ও সুনামের জন্য বড় হুমকি।
এদিকে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পূবাইলের বাজার ও চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষ বলছেন, ভয় দেখিয়ে ভোটের ফল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবার আর মেনে নেওয়া হবে না। অনেকেই এটিকে ভোটের মাঠ ফাঁকা করার পরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জাকির সরকার দাবি করেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি; শুধু নিজের বাড়ির পাশ দিয়ে ব্যানার লাগাতে নিষেধ করেছিলেন।