২০০৬ সাল থেকে বিগত দুই দশক ধরে বিএনপির ঘনিষ্ঠ শরিক হিসেবে সমমনা দল, ১৮ দলীয় জোট এবং পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোট, যুগপৎভাবে দায়িত্বশীল, ত্যাগী ও আদর্শিক ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে লেবার পার্টি রাজপথের যুগপৎ আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রাম এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিটি কর্মসূচিতে বিএনপির পাশে সক্রিয় ভাবে অবস্থান নিয়েছে। সেই পথচলার আনুষ্ঠানিক ভাবে ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটি।

গতকাল বেলা ২টায় নয়া পল্টন দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

লেবার পার্টি মনে করে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে ডাকা হরতালে ডাঃ ইরানের গ্রেফতার, যুবলীগের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া, অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও পাঁচবার কারাবরণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুজন কর্মীর শাহাদাত বরণ, সারাদেশে অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা মামলা গ্রেফতার নির্যাতন নিপীড়ন-সবই প্রমাণ করে লেবার পার্টি ছিল বিএনপির সবচেয়ে নিবেদিত, বিশ্বস্ত ও ত্যাগী শরিকদল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিএনপি দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক ভ্রাতৃত্ব, যৌথ সংগ্রাম ও মিত্রতার সম্পর্ককে অবজ্ঞা করে শরিক দলের সাথে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সমমনা দলগুলোকে মাইনাস করে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। যা রীতিমতো প্রতারনামূলক, অমর্যাদাকর ও বেঈমানীপূর্ণ আচরণ।

নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আন্দোলন নির্বাচন সরকার গঠন একসঙ্গে করার প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তারেক রহমান চিহ্নিত চাঁদাবাজ, হত্যা মামলার আসামী, দুর্নীতিবাজ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎকারী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা শুনেছি, বিএনপি টাকার বিনিময়ে অযোগ্য, ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর এবং অনৈতিক ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়ে হাজার কোটি টাকার মনোনয়ন বানিজ্যে লিপ্ত হয়েছে।