বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেছেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সুখি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে চায়। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যাতে ১৮ কোটি মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্বে একটি কুচক্রী মহল এখনো অপপ্রচার চালাচ্ছে, অতিতের মত জামায়াতে ইসলামী দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে সকল অপপ্রচার রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। ন্যায় বিচার, আইনের শাসন ও মৌলক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীরা যে সংগ্রাম চালিয়ে আসছে তা চূড়ান্তরূপ নেওয়া পর্যন্ত সকলকে কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক ব্যক্তিবর্গের যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সোনাডাঙা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, লবণচরা থানা সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান জিকো, ১৮ নং ওয়ার্ড আমীর মশিউর রহমান রমজান প্রমুখ। এ সময় জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান, মো. সোহেল রানা, অপু রায়হান, রবিউল ইসলাম বাবু, মো. জাকির হোসেন (মাসুম), তসলিম উদ্দিন তালুকদার, মো. আবু সালেহ আবির, এস এম লিটন আলী, মো. মনিরুজ্জামান, মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মো. ফিরোজ আহমেদ (কালন), মো. সুমন তালুকদার, মো. আব্দুর রশিদ ও মাহফুজুর রহমান। প্রধান অতিথি সকলকে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।

এডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে প্রমাণিত হয় জুলুম করে, অত্যাচার করে, জনগণের কন্ঠরোধ করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য কেবল আগস্ট বিপ্লব সংগঠিত হয়নি। এই বিপ্লব রাষ্ট্রের সকল বৈষম্য দূর করার বিপ্লব, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লব। এডভোকেট শাহ আলম বলেন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে। খুনি হাসিনা বলেছিল হাসিনা পলায় না! অথচ দুদিন পরেই শুধু পলায়নি, সব নিয়ে পালিয়েছে। এক শ্রেণীর আইনজীবী শেখ হাসিনার অপশাসনে মদদ দিয়ে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছে। শেখ হাসিনার সাথে সাথে সেই আইনজীবীদেরও বিচার হতে হবে। তিনি উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইনজীবীদের ভূমিকা প্রয়োজন। সেজন্য ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।