নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর সদ্য সাবেক প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ। দলের নাম রাখা হয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।

গতকাল শনিবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ একাধিক ‘ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তির’ কার্যত অবসানের ফলে এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এই শূন্যতা আংশিকভাবে কিছু ইসলামপন্থী দল পূরণ করলেও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী মূলধারার রাজনৈতিক শক্তির উত্থান প্রয়োজন। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক বলয়ের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নাঈম আহমাদ জানান, নতুন দলের রাজনৈতিক অবস্থান হবে মধ্যপন্থা থেকে মধ্য-ডানপন্থা। দলের ভাবাদর্শ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশপন্থা, সংস্কারপন্থা এবং বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে সামাজিক গণতন্ত্র।

তিনি বলেন, দলের অগ্রাধিকারমূলক ১২ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ধর্মীয় মূল্যবোধের সুরক্ষা; জুলাই সনদের বাস্তবায়ন; বিদেশি আগ্রাসন থেকে দেশকে নিরাপদ রাখা; পানি, প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষা; বিনামূল্যে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা; বিনামূল্যে সর্বজনীন চিকিৎসাসেবা; ন্যায্য ও পাচারমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা; ব্যবসা, বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ; কৃষি, আইটিসহ নতুন শিল্পের উন্নয়ন; পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগরায়ণ; প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; এবং সবার মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমাদ বলেন, আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

এর আগে তিনি ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। নতুন দল আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ না করা পর্যন্ত তিনি জেডিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই জাতীয় দলিল বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা জরুরি।

আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সুস্পষ্ট সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু এখনো দল হিসেবে তাদের বিচার শুরু হয়নি। তিনি বলেন, অবিলম্বে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হবে এবং আইন করে দলটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দলের আশ্রয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে জানতে চাই— আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, তা আপনারা বাতিল করেছেন কি না। যদি বাতিল করা না হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করে দেশকে সুদান, কঙ্গো কিংবা সোমালিয়ার মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান কি না— তা জাতির সামনে পরিষ্কার করুন।

তিনি আরও বলেন, হাসিনা আমলে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে অনেক মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছিল। আমরা লক্ষ্য করছি, এখন আবার ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে জুলুম করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। কেউ যদি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট অপরাধের অভিযোগ বা মামলা না থাকে, তবে তার ওপর কোনো জুলুম করা যাবে না। তাকে আমাদের মতোই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেডিপির সংগঠক নজরুল ইসলাম, মো. আহছান উল্লাহ, সাদমান আলম, নাকিবুর রহমান, ইমরান হোসেন রাহাত, মুত্তাকী বিন মনির, নূরা জেরিন, নাজমুন নাহার, আবুল বাশার, রাকিব হাসান, আসাদ মৃধা, অ্যাডভোকেট রুবেল ইসলাম খান, শেখ সাদী, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইমরান হোসাইন, জিহাদ আরাফাত, এরশাদ আলী প্রমুখ।