‘ দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, হাদির যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এই দুর্ঘটনা আরো ঘটেছে। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে আমাদের এক এমপি প্রার্থীর উপরে যা হয়েছে, এটা ষড়যন্ত্র। এটার বিরুদ্ধে যদি আমাদেরকে অবস্থান নিতে হয়, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি অবস্থান নিতে হয়, যে কোন মূল্যে আমাদেরকে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যে কোন মূল্যে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ফিরিয়ে আনতে হবে।ছাত্রদলকে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হিসেবে এই দায়িত্ব পালনের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি গত এক বছরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা হুমকি দিয়েছে প্রকাশ্যে যে প্রত্যাশিত নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে, সে নির্বাচনকে তারা হতে দেবে না, বাধাগ্রস্ত করবে। একটি দল, গোষ্ঠী বা কিছু ব্যক্তি এই দেশকে দেশের মানুষের শান্তি স্থিতিশীলতা বিনষ্টের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, যারা এই দেশের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চায়, এ দেশের সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করে, এই দেশের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করতে চায়, তারা তাদের ষড়যন্ত্র যে শুরু করে দিয়েছে।
সবার প্রতি বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ যাতে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে পারে দেশের মানুষ, এই ষড়যন্ত্র বন্ধ দমিয়ে দিতে পারে, রুখে দিতে পারে গণতান্ত্রিক প্র্যাকটিস তথা গণতন্ত্র। তিনি বলেন, আমাদের দলের পরিকল্পনাগুলো তোমাদের কাছে অর্পণ করছি। আমি বিশ্বাস করি আজকে যে দায়িত্ব তোমাদেরকে দিলাম মানুষকে বোঝানোর জন্য, সেটি তোমরা করতে সফল হবে। কারণ তোমাদের সেই যোগ্যতা আছে, তোমাদের সেই মেধা আছে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্ব ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খানের সঞ্চালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ইদেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হাদিকে (শরিফ ওসমান হাদি) গুলী করা হয়েছে। আমরা একটি অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছি। নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য সেই শক্তি আবার চক্রান্ত শুরু করেছে। আমরা মনে করি এটা চক্রান্তের একটি অংশ। এটাকে এখনই বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবিলম্বে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। এই নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসমুক্ত হয়, তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তিনি আরও বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট আছে, নির্বাচনের পরে আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখেছেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।