বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেছেন, মসজিদ হলো ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান। মসজিদের খতিব সাহেবের বক্তব্যে সব শ্রেণী পেশার মানুষসহ সকল দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ শুনে থাকেন। সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে মসজিদে ভূমিকার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে খতিব সাহেবগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তিনি অন্তবর্তী সরকারের প্রতি আহবান জানান যেন আইন শৃঙ্খলা কমিটিসহ সকল কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে মসজিদের খতিব এবং ইমামগণকে অন্তর্ভুক্ত করে মসজিদ কেন্দ্রীক গণশিক্ষা কার্যক্রম যেন আরো গতিশীল করার উদাত্ত আহ্বান জানান। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মসজিদ মিশন খুলনা মহানগরীর কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খুলনা মহানগরীর মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মসজিদ মিশনের খুলনা অঞ্চল দায়িত্বশীল অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান ও খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে ড, মাওলানা মুফতি আব্দুর রহীম, অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফ এম নাজমুস সউদ, অধ্যাপক নজিবুর রহমান, মুফতি মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, হাফেজ মাওলানা আ খ ম মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মনিরুজ্জামান, মাওলানা শাফায়াতুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল গফ্ফার, মাওলানা সিরাজ বিন ইয়াকুব, মাওলানা সফির উদ্দিন, মাওলানা গাজী আল আমিন, মাওলানা শাহজাহান আলম, মাওলানা আব্দুর রহীম, মাওলানা মাহাদী হাসান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, হাফেজ মাওলানা সাইফুল্লাহ মানসুর, হাফেজ মাওলানা জাহিদুল হক, মাওলানা নূর সাইফ জালালী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী আরও বলেন, ১৯৭৩ সালে ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ মসজিদ মিশন দেশের কঠিন ক্রান্তিকালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যখন ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের চরম দূর্দিন ছিল। আলেম-উলামাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা হতো, সকলের কন্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছিল। মসজিদ ভিত্তিক কাজ করতে কোন বাঁধা দেয়া হয়না। ইমাম ও খতিবগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে আমরা মসজিদের এলাকায় কোন সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, অশ্লীলতা বেহায়াপনা থাকবে না, তাহলে কারো সাহস নাই এগুলো চর্চা করার। এ জন্য কুরআনকে বুকে নিয়ে সমাজ উন্নয়ন মুলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
মাওলানা মশিউর রহমান খান বলেন, মানব কল্যাণে যারা কাজ করে তারাই সফল মানুষ। তাই আসুন মসজিদ মিশনের মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ করে মসজিদ মিশন এগিয়ে নিতে হবে। খুলনাতে যত গুলো মসজিদ আছে সব মসজিদ গুলোকে মসজিদ মিশনের আওতায় আনবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম এর জন্য আমাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, যুগে যুগে নবী রাসূলগণ শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত উপস্থাপন করেছেন। ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে তারা শত জুলুম নির্যাতনের মুখেও কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অনুমোদন দেননি। কোন সন্ত্রাসের সাথে ইসলামের কোনরকম সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, নবীগণ শান্তিপূর্ণ উপস্থাপনের মাধ্যমেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছে। হযরত মুহাম্মাদ (সা.) মক্কায় ১৩ বছর ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। চরম জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাথীদের প্রতিশোধ নেয়ার অনুমতি দেননি। মক্কায় ১৩ বছর ইসলামের দাওয়াত কার্যক্রমের পর মদীনাবাসীর স্বতঃস্ফর্ত সমর্থনের ভিত্তিতে রাসূল (সা.) এর নেতৃত্বেই মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয়েছে। এটাই হলো ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুন্নত তরীকা।