১১ দলীয় নির্বাচনী জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, “জুলাইয়ের চেতনায় দেশ গড়তে হলে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও জুলুমবাজদের রাজনীতি থেকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।”
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মহেশখালীর কালামারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আযাদ বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধমকি ও নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভোটারদের তিনি নির্দেশ দেন, ভোটের দিন সকাল থেকে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালী আগামী দিনে ব্লু ইকোনমির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে, পণ্যদ্রব্যের দাম হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও মৎস্য রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, দেশে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় মেধা পাচার হচ্ছে। সৎ ও মেধাবী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে। তিনি নির্বাচিত হলে মহেশখালীতে বিদ্যমান গোষ্ঠীগত বিরোধ নিষ্পত্তি, লবণ আমদানি নয়—লবণ রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। নিজের অতীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত কোটি টাকার কাজ করেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং আলোচিত ইসলামী বক্তা শাইখ আলী হাসান ওসামা। তারা সবাই ভোটকে জনসাধারণের আমানত হিসেবে মূল্যায়ন করার এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জনসভায় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসেন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় রাজনৈতিক দলের জেলার ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।