বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত জীবননগরের বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমানের প্রথম নামাজে জানাযা ঢাকায় গতকাল মঙ্গলবার সোয়া ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ মফিজুর রহমানের জানাযায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। এছাড়া জানাযা নামাজে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এডভোকেট রুহুল আমিন ও ঢাকা-৪ আসনের এমপি মো. জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঢাকাস্থ কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আহত হওয়ার দশদিন পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মরহুমের প্রথম নামাজে জানাযা শেষে লাশ নিয়ে নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে একই দিনে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে শহীদ হন মরহুমের আপন ভাই জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মফিজুর রহমানের হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। বিএনপি সন্ত্রাসীদের এই পৈশাচিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের পর বিএনপি সন্ত্রাসীদের এমন নারকীয় ও কাপুরুষোচিত বর্বর হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই নৃশংস হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারকে অবশ্যই দেশে আইনের শাসন এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তবে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়ে হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হবে এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। তখন উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে।