বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের বলেছেন, “নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, জনজোয়ারকে ঠেকানোর জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যদি নির্বাচনে কারচুপি হয়, দখলদারি হয়, গ্রহণযোগ্য না হয় তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।” এজন্য তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি সারাদেশে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
শনিবার বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা সেকান্দর আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও শুভপুর ইউনিয়নের উনকোট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন দল থেকে ১০ জন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান করেন।
ডাঃ তাহের বলেন, “কারা সন্ত্রাস করবে? সন্ত্রাসীদেরও দুই হাত, শান্তিকামী মানুষেরও দুই হাত। কেউ যদি কেন্দ্র দখল করতে আসে তাহলে তাদের হাত চুরমার করে দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জোটের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে ১১ দলীয় জোট, অপরদিকে অন্য একটি দল। “১১ দলীয় জোটে আছে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রমের দল, জুলাই বিপ্লবের সিপাহ সালাহর দল এনসিপি এবং ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ। ১১ দলীয় জোট হচ্ছে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী জোট। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে।”
ডাঃ তাহের আরও বলেন, “আজ বাংলাদেশের জন্য এক চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশন চলছে। আমরা কি ৫৬ বছরের পুরনো অন্ধকারের দিকে পশ্চাতে হাঁটবো, নাকি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য এগিয়ে যাবো—এই সিদ্ধান্ত হবে আগামীর নির্বাচনে।”
তিনি বলেন, আগে কেউ সংস্কারের প্রশ্নে ভোটের বিরোধিতা করলেও জনগণের চাপের মুখে অবস্থান বদলাতে হয়েছে। “যারা আগে বলেছিল বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে, এখন তারাই বলছে আল্লাহ ও রাসুলের আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল—এখন আবার বলছে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়লে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু লক্ষণ আছে কি না—সেটাই প্রশ্ন।” বিপ্লবের পর সারাদেশে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা এতে অভ্যস্ত তাদের দ্বারা দুর্নীতি দূর করা সহজ নয়।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর এডভোকেট মু. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমীর মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।