জাতীয় সংসদের ভোটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাথে নির্বাচনী সমঝোতা করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সমঝোতার কথা জানান।

যে চারটি আসনে সমঝোতা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মো. মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাক্ষণবাড়ীয়-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

বিএনপি তিন‘শ আসনের মধ্যে ২৭২ আসনে ইতিমধ্যে দলের প্রার্থীদের নাম দুই দফায় ঘোষণা করেছে। বাকী ২৮ আসনের মধ্যে মঙ্গলবার ৪টি আসনে বিএনপি নির্বাচনী সমঝোতা করল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাথে। দলটির নির্বাচনী প্রতীক হচ্ছে ‘খেজুর গাছ’। এই প্রতীকে তারা এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, আগামী নির্বাচনে বিএনপির সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করবে। আমরা তাদেরকে এ বিষয়ে আমাদের দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি, শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আল্লাহ‘তালার কাছে আমরা এই দোয়া করছি যে তাদের এই উদ্যোগ যেন সফল হয়।

বিএনপি মহাসচিব জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এই চারটি আসনে বিএনপির কোন প্রার্থী থাকবে না। একই সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সারাদেশের অন্য আসনগুলোতে তাদের কোন প্রার্থী দেবে না। এটা নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, উনারা (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম) দলের নিজস্ব প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ মার্কায় নির্বাচন করবেন। আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান থাকবে তারা যেন সম্পূর্ণভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করেন। জনগণ যারা ভোটার আছেন ওই সমস্ত এলাকায় তারা খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে ধানের শীষকে শক্তিশালী করবেন। নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীদের বাইরে কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ায়, তবে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। দলীয় প্রার্থী বদলের এখন আর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বর্তমান সময়কে একটি ‘ভয়াবহ ট্রানজিশন পিরিয়ড’ বা রূপান্তরকাল হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ব্যক্তি ও মহল এই সংকটময় সময়কে কেন্দ্র করে ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, মহাসচিব মাওলানা মো. মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা আল হাবীব, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস কাসেমী, মাওলানা শেখ মজিবুর রহমান , মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ,সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাজহারী উপস্থিত ছিলেন।