ঝালকাঠি ২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে, সমর্থকদের বাড়ী ও দোকানে হামলা ভাঙচুর ও অগ্মি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে বগুড়ার নন্দীগ্রামে ধানের শীষের মিছিল থেকে চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধাদের উপর এবং নোয়াখালীর সূবর্ণচরে জামায়াত নেতার বাড়ীতে গভীর রাতে হামলার খবর পাওয়া যায়।

ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানায়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঝালকাঠি ২ আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম এর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন অফিস, বাড়ী, দোকান, বাসা ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর এডভোকেট হাফিজুর রহমান, এনসিপি’র মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলনা আ: হাই, জামায়াত নেতা এড. তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

জামায়াত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার অফিস, বাড়ী, দোকান, বাসা ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। সদর উপজেলার বাসন্ডা এলাকার প্রতিবন্ধী এক জামায়াত কর্মীর দোকান ও বাসায় আগুনে দিয়ে পুড়ে ফেলা হয়েছে। এসকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে জামায়াত সমর্থিত ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যাতে ভোটের দিন জামায়াত সমর্থিত ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে ভয়ে ভোট দিতে না যায়। প্রতিপক্ষ দলের লোকজন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। জামায়াতে ইসলামীর গণজোয়ার দেখে তারা পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় ভাংচুর, হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি এসকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকারীদের খুজে বের করে শাস্তির দাবি জানান। এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বগুড়া অফিস জানায় : বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রামে ধানের শীষের মিছিল থেকে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণার সময় দাঁড়িপাল্লা মার্কার কর্মী, চোখ হারানো জুলাইযোদ্ধা গালিবকে মেরে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভুস্কুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই উপজেলার থালতামাজগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে বিএনপির লোকজন জামায়াতের দুই কর্মীকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৫/৬ জন আহত হয়। মঙ্গলবার উভয় পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবী করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহেল গালিব (২২) ভুস্কুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল। সেসময় ধানের শীষের একটি মিছিল থেকে গালিবের ওপর হামলা চালায়। তাকে মোটর সাইকেল থেকে ফেলে বেদম মারপিট করা হয়। এনিয়ে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এঘটনার জের ধরে পারশুন গ্রামে বিএনপির লোকজন জামায়াত কর্মী ফারুক ও বেল্লালকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে। এখবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আটক দুই কর্মীকে উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি নেতা মাসুদ রানা, জামায়াত কর্মী ফারুক, বেল্লাল, আমিনুলসহ ৪-৫ জন আহত হয়। আহতদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া একই দিনে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেন প্রচারণা কার্যক্রম চালানোর সময় বিএনপির মাসুদের নেতৃত্বে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং টাকা বিতরণ এবং অভিযোগ মাসুদের বাড়িতে তাকে বেঁধে রাখে। পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করার পরেও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় উত্তেজিত এলাকাবাসী মাসুদ বাহিনীর হাত থেকে জামায়াত কর্মীদের উদ্ধার করতে গেলে বিএনপির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। বিএনপি নেতা মাসুদ এলাকার অমুসলিম ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ পৌঁছার আগেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে ভোটার মাঝে টাকা বিতরনের যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেবিষয়ে কোন প্রমান পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী সংবাদদাতা জানায় : নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতার বাড়িতে গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আমিন হাজির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতের শেষদিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ৭নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি বেলায়েত সেলিমের বসতঘরে চড়াও হয়।হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লোহার রড ও দা দিয়ে ঘরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বেলায়েত সেলিম দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঐ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং বর্তমানে দলটির সক্রিয় নেতা হিসেবে স্থানীয় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, হামলার বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ও সদর সুবর্ণ চর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইসহাক খন্দকার ও উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা জামাল উদ্দিন এহেন ঘৃণ্য বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেন এবং অবিলম্বে হামলাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।