স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
“জাগো যুবক, বদলে দাও সমাজ"—এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো প্রাণবন্ত ছাত্র–যুব সমাবেশ। তরুণদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে সচেতন ভোট, নৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে উঠে আসে নতুন প্রত্যাশা।
সমাবেশের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব জাহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন—
যারা অতীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রা থামাতে চেয়েছিল, ইতিহাস প্রমাণ করেছে তারাই পিছিয়ে গেছে। আমাদেরকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা দলগুলো আজ হেলিকপ্টারযোগে ভারত পালিয়ে গেছে। আমাদের প্রজন্ম কোনো ফ্যাসিবাদি শক্তি, কোনো রক্তচক্ষু বা আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করে না; আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছে মাথানত করি। বিগত সময়ে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা সবসময় লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ, যেখানে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব অন্যায় ও অত্যাচার দূর করবে। আমরা চাই হিংসা ও কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি বন্ধ হোক, রাজনীতিতে উদারতা ও সহনশীলতা থাকুক। জাতির সংকট মুহূর্তে যুবসমাজের দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়, এবং সততা, ন্যায় ও আদর্শের পথে ঐক্যবদ্ধ তরুণ শক্তিই জাতিকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে।
প্রধান আলোচক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন—
মাদক আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে। মাদকমুক্ত কাপাসিয়া গড়াই হবে আমাদের প্রথম কাজ। কর্মসংস্থানের সংকট দূর করতে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন গড়ে তোলা হবে। যুবকদের শক্তি সৎ নেতৃত্বের পেছনে কাজে লাগালে কাপাসিয়া দেশব্যাপী উন্নয়নের অনন্য মডেল হয়ে উঠবে।
তিনি কাপাসিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সংকট, কর্মসংস্থান ঘাটতি, মাদক–চাঁদাবাজি–সন্ত্রাসের বিস্তারসহ নানা বাস্তব চিত্র তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, গত দুই দশকে তিনি ৬৬টি টিউবওয়েল, ৩১টি গভীর নলকূপ, ৫১ পরিবারে টিন, ২২টি আধুনিক ওযুখানা–শৌচাগার, শতাধিক মসজিদে সহযোগিতা, খাদ্য ও পোশাক সহায়তা এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছেন। এছাড়া মাদক ও অপরাধ দমনে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাঁকে দায়িত্ব দিলে তিনি ১৭ দফা উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন, যার মধ্যে রয়েছে—কাপাসিয়া পৌরসভা গঠন, জিরো-ক্রাইম কমিউনিটি, আধুনিক ২০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, শিল্প–উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, বিদেশগামীদের ভাষা শিক্ষা, ক্যারিয়ার হাব, কৃষি আধুনিকায়ন, পর্যটন কেন্দ্র, মিনি স্টেডিয়াম, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রধান সড়ক ও রাস্তা সংস্কার–প্রশস্তকরণ, পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ–সোলার–ইন্টারনেট সম্প্রসারণ এবং নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস ও মহিলা মার্কেট।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ফরহাদ মোল্লাহ। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন—
মাওলানা সেফাউল হক, নায়েবে আমীর, গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী;
মাওলানা কাজিম উদ্দিন, নেতা, কাপাসিয়া উপজেলা ইসলামী আন্দোলন;
মাওলানা সানাউল্লাহ, আমীর, নরসিংদী জেলা জামাত;
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস জনাব এস এম ফরহাদ, গাজীপুর মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজা রেজাউল ইসলাম, গাজীপুর জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, এডভোকেট সাদেকুজ্জামান এবং স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এস এম ফরহাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন—
গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে ভুল নেতৃত্ব নির্বাচনের কারণে। ভুল মানুষকে ভোট দিলে তার দায় জনগণের ওপর পড়ে। তাই বিবেকের ভোট দিন এবং অন্যায়, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকুন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজপথ—সব জায়গায় আমরা অন্যায়ের লাল কার্ড দেখিয়েছি, ভবিষ্যতেও যুবসমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক সংস্থা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাপাসিয়া উপজেলা শাখা ঘোষণা করে—মাদকমুক্ত কাপাসিয়া, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, যুববান্ধব সমাজ গঠন এবং সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনে জনগণকে সচেতন করা তাদের মূল লক্ষ্য।
উপস্থিত হাজারো তরুণ–যুবকের উদ্দীপনায় সমাবেশটি কাপাসিয়ার পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্বের নতুন প্রত্যাশা ছড়িয়েছে।