বাংলাদেশের টকশো অতি পরিচিত মুখ এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন উদীয়মান নারী নেত্রী মারদিয়া মমতাজ। সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে বর্তমান সরকারের ৫টি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন।

তার পুরো বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো।

বৃষ্টি আসলে ঘরে পানি আসে, এটা তো জেনারেল সিনারিও না। দোষ কি বৃষ্টির?

ঘর যদি ভাঙ্গা থাকে তাহলে আসে।

রাইট, তাহলে ভাঙ্গাটা শুধরাতে হবে। এখানে আপনি যেটা বলছেন যে ওটাকে ঠিক করে এটা করতে হবে, আমার মনে হয় এইটা একটা আরেকটা ফাংশন না। ওকে।

দুইটার কাজ আলাদা, জায়গা আলাদা।

এবং ভাইয়া একটা কথা বলছিলেন যে এটা কি ভোট পাওয়ার একটা প্ল্যান কিনা?

আমার মনে হয় এটা যদি ভোট পাওয়ার প্ল্যান হয় তাও ভালো।

তাও ভালো। গণতন্ত্র এটাই। যে আপনি মানুষ ইমপ্রেস করবে, নেক্সট টাইম মানুষ যেন আপনাকে ভোট দিয়ে আবার আনে আপনি তখন সেবা আরো বাড়াবেন তাই না ঠিক আছে। এখানে টেনশন টা হচ্ছে আরেকটা জায়গায়। কোনটা সেটা? আরেকটা জায়গায় কি আমি এখন চ্যালেঞ্জ নাম্বার ফোর বলবো। চ্যালেঞ্জ নাম্বার ফোর সেটা হচ্ছে নিউ এজ ১৭ তারিখে একটা নিউজ করেছে অনেক মিলিয়েনিয়ার বিলিয়নিয়ার আছেন সংসদে সেটা অসুবিধা নাই কেউ বড়লোক হলে আমাদের অসুবিধা নাই ১৫০ জনের বেশি ঋণ খেলাপি আছেন এর মধ্যে আমাদের ধর্মমন্ত্রী তার একারেই ঋণ হচ্ছে ১৯০ কোটির বেশি। এখন এটা নিয়ে তো আর আফসোস করে লাভ নাই। আমরা যদি আসি যে কি করতে পারে সরকার আস্তে আস্তে তাদেরকে বলতে পারে যে আপনারা আস্তে আস্তে ফেরত দেন। আপনারা একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন ফেরত দিতে পারেন নাই ফেরত দেন এবং সেটা মানুষের সামনে দেখায় যে সংসদ সদস্যরা এই যে এই মাসে এত টাকা দিয়েছেন। এটা একটা ভালো জিনিস হ্যাঁ আমরা দেখতে চাই। এটা না একটা মানুষকে একটা গুড মেসেজ দেয় যে আমাকে কাউন্ট করা হচ্ছে, আমার মতামত আমি কি মনে করি এটা কাউন্ট করা হচ্ছে, ঠিক আছে এটা হচ্ছে চ্যালেঞ্জ নাম্বার ফোর এবং আপনি একটা জিনিস খেয়াল করেন সংসদে যখন ব্যবসায়ী বাড়ে তখন সিন্ডিকেট গুলো আনব্রেকেবল হয়ে যায় ভাঙ্গা যায় না ভাঙ্গা যায় না গত সংসদে আপনি দেখেছেন ৬০% এর বেশি ছিল ব্যবসায়ী আপনি একটা লবণের দাম ও কমাতে পারেন নাই এবং প্রত্যেকবার রমজানে আসলে টমেটোর দাম যে বাড়তো পরে আর কমতো না। শসার দাম যে বাড়তো পরে আর কমতো না। লেবু আমরা পাঁচ টাকা হালিও কিনেছিলাম কিন্তু ওইটা যে বেড়েছে আর কমে নাই। এটা কিন্তু কার্ফটা উপরের দিকে আর নামে নাই কারণটা কি কারণ সংসদে ব্যবসায়ী বেশি এটার ইন্ডিকেশন আমার মনে হয় আপনারা বুঝেন। সিন্ডিকেট কেন ভাঙবে না? এখানে যদি আমি বখরা না পাই আমি তো ভেঙ্গে দিবো। আর আমার যদি বখরার আশা থাকে তাহলে আমি ভাঙবো না সে হিসাব সহজ এবং এটা ভাঙতে বাংলাদেশের মানুষকে আপনি শুধু বলেন কিচ্ছু লাগবে না শুধু সদিচ্ছা লাগবে। এটা সহজ।

কিন্তু এখানে এখানে আপা আমি একটু যুক্ত করতে চাই যেটি সেটি হচ্ছে যে এর আগে যদি বলি আমরা আওয়ামী সিন্ডিকেট ছিল। আওয়ামী সিন্ডিকেট তো ভাঙতে হবে না। সেটা অলরেডি ভেঙে গেছে। আর বিএনপির সিন্ডিকেট তো এখনো নিশ্চয়ই তৈরি হয়নি। আসি।

এটা চ্যালেঞ্জ নাম্বার ফাইভ। চ্যালেঞ্জ নাম্বার ফাইভ। চ্যালেঞ্জ নাম্বার ফাইভ হচ্ছে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে কিভাবে হেল্প করবে? বাধা দিবে? নাকি পুনর্বাসন করতে সাহায্য করবে? এটা সরকারের সামনে এখন অনেক বড় একটা প্রশ্ন। আপনি জানেন যে কাউকে যখন আওয়ামী লীগের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এটি সমাধান হবে। রুট লেভেলে এই মেসেজটা কিভাবে যাচ্ছে আমি আপনাকে একটা একটা কথা পড়ে শোনাই। নাজিমুদ্দিন হাজারী উনি হচ্ছেন ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি আজকে বলেছেন আগামী দুই মাস আমাদের নেতাকর্মীদের জামিনের কোন নিউজ ছবি ভিডিও কেউ ফেসবুকে পোস্ট করবেন না যতটুকু সম্ভব গোপন রাখার চেষ্টা করবেন। এই সমস্যাটা কি সমাধান এবং এটা আপনি দেখেছেন গতকাল একটা জায়গায় বিএনপি বিএনপির নেতাকর্মীরা মার খেয়েছে আওয়ামী লীগের হাতে। এটা শুধু যে দেশের মানুষের জন্য মানে এটা শুধু একটা দলের জন্য সমস্যা না তো এটা দেশের জন্য সমস্যা। আওয়ামী লীগ এমন একটা দল এটার মধ্যে আর কোন গুডনেস বাকি নাই। কি পরিমাণ কন্টামিনেটেড হলে কি পরিমাণ দূষিত হলে একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে জাতীয় মসজিদের খতিব কে পালাতে হয়। একটা পুরা প্রশাসনকে পালায় যেতে হয়, পুলিশকে পালিয়ে যেতে হয়। থানাগুলো ফাঁকা ছিল না চারদিন আমার আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা পাহারা দিয়েছেন। এই পুরোটা জায়গা কিন্তু এখনো রো এবং অনেকেই দাঁতে দাঁত চেপে বুকে পাথর চেপে অনেকদিন অপেক্ষা করেছিলেন যে এখন অনেক কষ্ট বের করে দিবেন বের হয়ে আসছে আপনি দেখবেন যে আমি আজকে খুব কষ্ট পেলাম কালের কণ্ঠ একজনের একটা সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপতির মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলতে হয় কালের কণ্ঠ একটা বার তাকে সাহস করে জিজ্ঞেস করে নাই যে এই যে মানুষকে মারা হচ্ছিল আপনার তখন ভূমিকা কি ছিল? আমরা একটা সাইকেল দেখছি।

মিডিয়া আবার আগের জায়গায় চলে যাচ্ছে।

হ্যাঁ, এই যে চ্যালেঞ্জ নাম্বার ফাইভ এটাকে কিভাবে ফেস করবেন? এটা শুধু যে আমি একজন ব্যক্তির কাছে না।

এটার জবাব আসলে ভাবতে হবে। আমি যে শুধু একজনের কাছে এখন শুনতে চাচ্ছি এটা না। দেশের মানুষ আসলে জানতে চায়। বৃষ্টি আসলে ঘরে পানি আসে। এটা তো জেনারেল সিনারিও না। দোষ কি বৃষ্টির?

এবার শেষে এসে আমি একটা সম্ভাবনা বলতে চাই। কারণ সমস্যা শুধু বলেই যাব শুধু এটাক করে যাব। এটা তো কোনো এপ্রোচ না। সম্ভাবনাটা হচ্ছে যে এইবার গণতন্ত্রের বাতাসটা একটু সুন্দর বাংলাদেশে এবং বিএনপির সামনে অনেকগুলো জায়গা আছে।

কি জায়গা?

সাহায্য চাওয়ার জায়গা। কোথায় জায়গা দেখেন। এবং বিরোধী দল থেকে এত সুন্দর করে এপ্রোচ করা হচ্ছে দুইটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে যেকোনো সাহায্য চাইবেন আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত। দ্বিতীয় বলা হচ্ছে আমরা শ্যাডো মন্ত্রীসভা করে আপনাদের সাথে থাকতে চাই। এই সাহায্যটা নেওয়ার মানসিকতা অবস্থান এবং জায়গাটা তৈরি করার দায়িত্ব কিন্তু আবার সরকারের। বিরোধী দল কিন্তু বলে খালাস। তাদের এটার পেছনে সুশাসন তাদের এটার পেছনে সুধারণা আছে কিনা সক্ষমতা যোগ্যতা ইচ্ছে আছে কিনা এটা দেখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু বলেছে তো আর কখনো তো বলে নাই। এই জায়গাটাকে কাজে লাগাতে হবে। দুই নাম্বার কথা হচ্ছে যে একটা কথা জামাতকে খুব বলা হয়েছে যে নারী পছন্দ করবে না, কিন্তু এখন দেখা গেল নারীরা বেশি ভোট দিয়েছে। তার মানে নারীদের মতামত এবং আরেকটা মজার কথা আপনাকে বলি ভাই বেশি বলছিলেন যে গ্রামের নারীরা বেশি পছন্দ করে কিন্তু ঢাকায় জামাত কিন্তু আর কখনো আসন পায় নাই।

এবার কার অবস্থা দেখেন? এবং এমন কিছু জায়গায় জামায়াতের এমপিরা আছেন যে জায়গাগুলোতে আপনি চাইলে চাবি ঘুরাতে পারেন ঢাকার এন্ট্রান্স গুলা ঢাকার বাজারগুলো এখানে আছে এবং তারা কাজ শুরু করেছেন। কারণ বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে স্থানীয় যে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি উনি তাদেরকে নিয়ে মিটিং করেছেন এবং বলেছেন কি কি জিনিসের দাম কমানো হবে ছোলা সহ এবং তাদেরকে দিয়ে ওয়াদা করি এটা মানুষের সামনে ঘোষণা দিয়ে ছেড়েছেন। এই জায়গাগুলোকে সরকার চাইলে কাউন্ট করতে পারে। এই একাউন্ট গুলোকে নিয়েই তো সরকার, এমপি তো শুধু দলের না। তাহলে আমি বলব যে এই সম্ভাবনাগুলোকে মাথায় নেওয়া এবং কাজে লাগানো।