বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতগণ। গতকাল সোমবার পৃথকভাবে তারা এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।সাক্ষাতে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মার্কিন দূতাবাসের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তারেক রহমানের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন। এসময় আগামী নির্বাচনসহ দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। সোমবার সকালে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে হাইকমিশনার সাক্ষাৎ করতে আসেন। সাক্ষাতের সময়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও উপদেষ্টা মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যানের দফতরের কর্মকর্তারা জানান, চেয়ারম্যানের সাথে হাইকমিশনার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।
এছাড়া তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতগণ। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলালের নেতৃত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত জার্মান, ফ্রান্স, সুইডেন ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালির রাষ্ট্রদূতগণ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারম্যান ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটি সদস্য হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ড. মাহদী আমিন ও বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
জানা গেছে, সাক্ষাতে আগামী নির্বাচন ও দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, তারা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। তারা চায় একটি সুষ্ঠুু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ জন্য ইউভুক্ত দেশগুলো সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
দোষারোপের রাজনীতির পরিবর্তন প্রয়োজন : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা দোষারোপের রাজনীতির পরিবর্তন প্রয়োজন। দোষারোপের রাজনীতিতে মানুষের পেট ভরে না। মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোই সব থেকে বড় রাজনীতি। আমরা অতীতে দেখেছি, মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক রাজনৈতিক দল অন্যদলের নানা কাজের সমালোচনা করছে, দোষারোপ করছে। বহু বছর ধরেই রাজনীতির এ ধারাবাহিকতা চলে আসছে। তবে একটি পরিবর্তন প্রয়োজন- বিএনপি সেই পরিবর্তনের শুরুটা করেছে। গতকাল সোমবার যশোরের আলোচিত শিশু আফিয়ার পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যশোর জেলা বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, আফিয়ার মতো দেশে এমন অসংখ্য অসহায় পরিবার আছে। বিএনপি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে এমন আফিয়াদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা সব সময় করে আসছে। তবে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এই বিশাল দায়িত্ব বহন করা বিএনপির জন্য অত্যন্ত কঠিন। সেজন্য আমরা বলেছি, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন পেলে আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এ সেবাগুলো নিশ্চিত করব।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য আমরা কৃষিকার্ডের কথা বলেছি। শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত মানুষের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা বলেছি। ভারি বর্ষণ কিংবা সীমান্তের ওপার থেকে পানি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়। এজন্য শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন প্রকল্প ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময়ই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে কাজ করেছেন। আমিও সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। এজন্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে আবারও খাল খনন প্রকল্প শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার সুফল ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নারী সমাজ পেয়েছে। সেই শিক্ষিত নারীদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করার জন্য আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত চিলেন।
প্রসঙ্গত, ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের শরীরের ত্বক, মাথার চুলের রঙে ভিন্নতার কারণে ‘অপবাদ’ দিয়ে স্ত্রী মনিরা খাতুনকে (২৭) তালাক দেন স্বামী মোজাফ্ফর হোসেন। শিশু আফিয়ার বয়স যখন আট মাস, সেই সময় বিচ্ছেদ হয়ে যায় মোজাফ্ফর-মনিরা দম্পতির। বিষয়টি নিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।