ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সহিংসতা অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর ধূপখোলা খেলার মাঠসংলগ্ন শহীদ জুনায়েদ চত্বরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মান্নান দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী জাল ভোট চ্যালেঞ্জের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ খামে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। খাম প্রস্তুতের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে তার দলের তিন নেতাকে মারধর করে। পরে প্রশাসনের শরণাপন্ন হলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট কোনো শুনানি ছাড়াই তাদের তিন কর্মীকে কারাদণ্ড দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এটি পক্ষপাতমূলক আচরণের শামিল এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, তার কর্মীরা কোথাও ভোট কেনাবেচা বা অর্থ বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণও দেখানো হয়নি।

অন্যদিকে জুবিলী স্কুল কেন্দ্রেও তার পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করতে গেলে বিএনপির লোকজন সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেন ড. মান্নান। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় তার পাঁচজন পোলিং এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযুক্তদের কাউকে আটক করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান, জাবেদ কামাল রুবেল, কাদের, রানা এবং স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন ড. মান্নান। তিনি জানান, দুটি ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় একটি পক্ষ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে তারা পাল্টা উত্তেজনা না বাড়িয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।