বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন দেশ বর্তমানে এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খুন, ধর্ষণ আর চাঁদাবাজির মহোৎসবে সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে ব্যার্থ হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণ আয়োজিত তৃণমূল দায়িত্বশীলদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে দেশে অন্তত ৪০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা হলো: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় জীবননগরে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহতের ঘটনা জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেছে। পাবনা ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ধর্ষণের ঘটনা সারা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। গাজীপুরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাইকে গলাটিপে হত্যার পর বনের ভেতর মাটিচাপা দেয়ার ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কমলাপুর ও ডেমরা এলাকা থেকে এক যুবকের (ওবায়দুল্লাহ) দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা চরম নিরাপত্তাহীনতার প্রমাণ। গাইবান্ধায় গত দুই সপ্তাহে জেলায় ৫ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে আইনজীবীর সহকারীও রয়েছেন। ফলে পুরো জেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা এবং নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ড. হামিদ আযাদ উল্লেখ করেন যে, শুধু হত্যা বা ধর্ষণ নয়, সারা দেশে এক শ্রেণির অসাধু চক্রের চাঁদাবাজিতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজারেও পেশিশক্তির দাপটে চাঁদাবাজি চলছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলছে।

ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিস্ক্রি’য়তা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। অবিলম্বে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।" তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সরকারকে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। তিনি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণের আমীর মাস্টার শামিম ইকবাল এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ জাকের হোসেন, কক্সবাজার শহর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি কামরুল হাসান, মহেশখালী উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, পৌরসভা সভাপতি মোতাহের হোসেন, ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ সোহাইল, কুতুবজোম ইউনিয়ন সেক্রেটারি আবদুর রহমান সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।