ক্ষমতায় গেলে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা সামাজিক সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ভাষানটেকে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন সময় দেশ গঠনের। স্বৈরাচারী শাসনের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করতে হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির প্রয়োজন রয়েছে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যেতে পারেনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। একই সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সেই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার ও নাজিমুদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্যসচিব মোস্তফা জামান প্রমুখ। এছাড়া ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদের মাহমুদ, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মেদ জনসভায় অংশ নেন।
বক্তব্য শুরুর আগে ভাষানটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং নির্বাচিত হলে ও ক্ষমতায় গেলে সেসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে জনগণের সমস্যাগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের প্রয়োজন ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষমতায় গেলে সেগুলো কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়। জনসভায় তিনি পুনরায় জনগণের সমস্যা শুনে সমাধানের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার গুরুত্বের উপর জোর দেন এবং বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনগণকে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।
ক্ষমতায় গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কৃষি ও অবকঠামোগত উন্নয়ন, বস্তিবাসীর পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিএনপি কাজ করবে জানান তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। স্বৈরাচারের কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
জনসভায় অংশ নেয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শুনে সমাধান করবেন।
এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড, ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাওয়া বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে।
নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ তাদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষের। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারাদেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয় স্বজনকেও অনুরোধ করবেন, ধানের শীষে ভোট দিতে।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মুফতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে এ জনসভা শুরু হয়। সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে মঞ্চে আসেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমান সভামঞ্চে আসার পর দলের নেতা-কর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ভোট দিব কীসে, ধানের শীষে’, ‘লাগারে লাগা, ধান লাগা’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকেন।
ভাষানটেক থানা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন থানা বিএনপির আহ্বায়ক কামাল মাহমুদ। জনসভাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে জনসভাস্থলে জমায়েত হতে থাকে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি মাঠ ইতোমধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা হলুদ টুপি মাথায় দিয়ে ধানের শীষ আঁকা এক রঙের গেঞ্জি, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত গেঞ্জি, দলের ব্যানার, ফেস্টুনসহ দলীয় নেতাদের ছবি নিয়েও সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে জনসভাস্থল।