বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বিএনপি প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর প্রায় ৫টার দিকে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মশিউর রহমান খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ১,১৭,৫২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,১৪,৩২৩ ভোট। এ আসনে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল তুলনামূলকভাবে কম, যা ভোটারদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর-কচুয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শেখ মনজুরুল হক রাহাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১,১৭,৭০৯ ভোট অর্জন করে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬,৪০৯ ভোট। এ আসনে জয়ী প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১,০২,৬৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩,৫৫০ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সুস্পষ্ট ব্যবধানে জয় লাভ করেন।

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল আলীম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১,১৬,০৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোমনাথ দে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮,৩২৬ ভোট। এ আসনেও দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষণীয় ছিল।

সার্বিকভাবে দেখা যায়, বাগেরহাট জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন এবং একটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।