আগে বিদেশীরা লুট করত, এখন দেশীয় শাসকরাই জনগণের সম্পদ লুট করে ----মামুনুল হক

৫ আগস্টের মতো ১২ ফেব্রুয়ারিতেও বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো --- নাহিদ ইসলাম

মেরুল বাড্ডায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলমাীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে, তরুণ যুবকেরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিয়েছে। পুরানো বন্দোবস্তের সাথে তারা নেই। বস্তাপচা রাজনীতি আর ফিরিয়ে আনতে চায় না। নতুন বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন রাজনীতির উত্থান আমরা দেখতে চাই। জনগণ আগামী ১২ তারিখ সেই রায় দেবে। জনগণ দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাবে, জনগণ চাঁদাবাজদেরকে লাল কার্ড দেখাবে। জনগণ দখলদারদেরকে লাল কার্ড দেখাবে, জনগণ আধিপত্যবাদের গোলামদেরকে লাল কার্ড দেখাবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত এসব কথা বলেন। এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আমীরে জামায়াত বলেন, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, হাদি আমরা তোমাদের কাছে এবং তোমাদের বন্ধুদের কাছে বড়ই ঋণী। আমরা কথা দিচ্ছি তোমাদের আকাক্সক্ষার নতুন বাংলাদেশ হলে, এ দেশ এবং জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে তোমরা যেমনটা চেয়েছিলে আমরা তেমনটাই যোগ্য এবং দীপ্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশ আমরা যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। ২৪-এর যুবকেরা কোথাও বেকার ভাতা চায়নি, বেকার ভাতার জন্য স্লোগানও দেয়নি। সেদিন যুবকেরা বলেছিলো আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দাও, আমাদের কাজ দাও। বেকার ভাতার কথাই হচ্ছে যুব সমাজকে অপমান করা। আমীরে জামায়াত যুবকদেরকে জিজ্ঞেস করেন, হে যুবকেরা! আপনারা বেকার ভাতা চান ? না কাজ চান ? সকলেই হাত তুলে বললেন বেকার ভাতা চাই না, আমরা কাজ চাই। যেমন দশ টাকা চাউলের কেজি ছিলো ভুয়া, তেমনি এই কার্ডগুলো হবে সেরকম ভুয়া। এ রকম ভুয়া কার্ডকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ লাল কার্ড দেখাবে বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ দেখেছি আর ২৪ আমরা পেয়েছি। ৪৭ এ যে আকাক্সক্ষা ছিলো হুবহু ৭১ সালেও সেই আকাক্সক্ষা ছিলো। ২৪ সেই আকাক্সক্ষার বিস্ফোরণ ঘটেছিলো। ৪৭-এর পরে ২৩ বছর আকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি। ৭১ পরে ৫২ বছর সেই আকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি। এখন ৫৪ বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। চব্বিশে আমাদের যুবক ও ছাত্রসমাজ বিশাল কোনো দাবি নিয়ে আসেনি। তাদের একটি ন্যায্য ও সাধারণ দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলো। সেটা হলো কোটা সংস্কারের আন্দোলন। কিন্তু অতীতের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় যুব ও ছাত্র সমাজকে দমানোর চেষ্টা করেছিলো।

তিনি বলেন, আপনাদের স্মরণ থাকার কথা ১৫ তারিখ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে যখন হাত তুলেছিলো সারা বাংলাদেশের মানুষ তখন জ্বলে উঠেছিলো। তার পরের দিন ১৬ তারিখ উত্তরবঙ্গের এক সিংহ পুরুষ আমাদের গর্ব, অহংকার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ রাস্তায় নেমে বলেছিলো হয় আমার অধিকার দে না হয় আমাকে গুলী দে। সে ডানা পেতে বলেছিলো, ‘বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলী কর’। রাস্তায় বীরের মতো দাঁড়িয়েছিলো। এক এক করে তিনটি গুলী করে খুন করা হয়েছে। একটা গুলীও সে পিঠে নেয়নি, তিনটি গুলীই সে বুকে নিয়েছিলো। আমরা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। একই দিনে আর ৫ জন তাদের সহকর্মী শাহাদাতবরণ করেন।

আমীরে জামায়াত বলেন, আপসোস! আমরা যারা সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের জাঁতাকলে পিষ্ঠ ছিলাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আলেম-উলামা, সাংবাদিক বন্ধুগণ, সুশীল সমাজের সদস্য, কৃষক-শ্রমিক যারাই ছিলাম এর মধ্যে একটা অংশ এই মজলুম অবস্থার পরিবর্তন করে তারা রাতারাতি জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যে সমস্ত অপকর্ম করে আওয়ামী লীগ দীর্ঘসময় এই জাতিকে কষ্ট দিয়েছে। একই অপকর্ম একটা অংশ করা শুরু করে দিলো। আমরা বিনয়ের সাথে অনুরোধ করলাম মজলুম ছিলেন জালিম হবেন না। মজলুমের কথা তো বুঝার কথা এখন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন? আমরা লক্ষ্য করলাম বেপারোয়াভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি শুরু হয়ে গেলো। এখনও অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীরা বলে আমরা যাবো কোথায় ? আমাদেরকে জিম্মি করে আমাদের বিরুদ্ধে মার্ডার মামলা দিয়ে এখন আমাদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে। দাবি করছে কারা জানেন ? এই সাড়ে ১৫ বছর যারা বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে অন্য দেশের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন ফিরে এসে তারাই মামলাবাণিজ্য করে চাঁদা দাবি করছেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের জ্বালায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতে বসে যে ভিক্ষুক ভিক্ষা করে তার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। আমাদের সন্তানদেরকে বুকে নিয়ে জুলাই মাসের এই জন্য কি লড়াই করেছিলাম ? প্রশ্ন রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।

আমীরে জামায়াত আরও বলেন, আমাদের সন্তানদের দাবি ছিলো ‘উই ওয়ান জাস্টিস’। আমরা ন্যায়বিচার দেখতে চাই এবং শান্তিতে থাকতে চাই। আপনারা দেখেছেন একটি দল তারা মাঝেমধ্যে বলে তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। এটা ভালো কথা। এই ভালো কাজটা নিজের ঘর থেকে শুরু করেন। ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাতদেরকে আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বেন এটা আদৌ সম্ভব না। জনগণ এটা বুঝে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট যে আকাক্সক্ষা নিয়ে আমাদের সন্তানেরা, ভাইয়েরা ও বোনেরা, শিশু-বৃদ্ধ-আবাল-বনিতা রক্ত দিয়েছিলো। ঐ রক্তের ঋণ পরিশোধ করার দিন ১২ ফেব্রুয়ারি। এই রক্তের সাথে যারা বেইমানি করে ইতিহাস তাদেরকে ক্ষমা করবে না। যে দেশের জনগণের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় গড়ে উঠবে। সেই বাংলাদেশে অপকর্ম চলতে দেয়া হবে না। বিচার একেক জনের জন্য একেক রকম হবে না। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে ঐ নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য তার যে শাস্তি হবে দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলে তাদের তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলবো না। একইভাবে তাদেকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। সেদিনই ন্যায় বিচার কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের টাকা লুণ্ঠন করে যারা বিদেশে পাচার করেছেন। তারা কার টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে ? এটা তাদের টাকা নয়, এটা ১৮ কোটি মানুষের টাকা। রাষ্ট্রের আয়ের খাত তিনটি- ট্যাক্স, বিদেশি অনুদান এবং বিদেশি ঋণ। এই তিনটি মিলিয়ে রাষ্ট্রের তহবিল। আমরা কথা দিচ্ছি যদি ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাংলাদেশ হয়, তাহলে নতুন বাংলাদেশের এই প্রাপ্য ষোলআনা আদায় করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, একটি কথা আল্লাহ তায়ালাকে সাক্ষী রেখে বলবো মানুষের জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জত এই তিনটি পাহারাদার হবো ইনশাআল্লাহ। যারা এমপি হবে তারা প্রতি বছর তাদের পরিবারের সদস্যসহ পারিবারিক সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে দিতে বাধ্য হবে, ইনশাআল্লাহ। আমাদের দেশে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই। ঘরেও নেই, রাস্তায়ও নেই এবং কর্মস্থলেও নেই। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ। যে জাতি তার মায়েদের সম্মান করতে জানে সেই জাতিকে আল্লাহ তায়ালা সম্মান বাড়িয়ে দিবেন। আর যে জাতি মা-বোন এবং মেয়েদেরকে সম্মান করতে জানে না আল্লাহ তায়ালা তাদের কিভাবে তাদের সম্মানিত করবে? আমরা মা-বোন এবং মেয়েদেরকে নিরাপত্তা এবং সম্মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুবক বন্ধুরা তোমরা তৈরি হয়ে যাও বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য। আমরা বিশ্বাস করি যুবকরা বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ দেশের মানুষ মেধাবী এবং পরিশ্রমী। অতীতের নেতৃত্বের মধ্যে সততার অভাব ছিলো। তাদের মধ্যে দুর্নীতির হাত বন্ধ রাখার শপথ ছিলো না। দেশের প্রতি দায় ছিলো না। এজন্য বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারেনি। আমরা আশা করবো যুবকরা আমাদেরকে হতাশ করবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাহিদ আপনাদের এলাকার সন্তান। আমি মায়ের কাছে মাসির কথা বলতে চাই না। আমার চাইতে নাহিদকে আপনারা ভালো চিনেন। কিন্তু এটা বলতে চাই, ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায়, আল্লাহর মেহেরবানীতে যদি অর্জিত হয়- তাহলে সেই সরকার অবশ্যই নাহিদ ইসলামকে আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন। আমরা হাতে হাত ধরে একসাথে কাজ করবো।

এই জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ৫টি বছরই যথেষ্ট। আমরা এমন কোন আশ্বাস আপনাদেরকে দিবো না যেটা এখানে নেই। যেটা এখানে আছে সেটারই আশ্বাস দেবো। যা বলবো ইনশাআল্লাহ জান-প্রাণ দিয়ে সেটাই করার চেষ্টা করবো। যেভাবে জুলাই এনে দিয়েছে আমাদের সহযোদ্ধারা জান-প্রাণ দিয়ে, সেভাবে আগামীর দায়িত্বও আমরা পালন করবো জান-প্রাণ দিয়ে।

আসুন, একটা বেইনসাফমুক্ত, জুলুমবাজমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত একটা ন্যায় ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমরা হাতে হাত, কাধে কাধ মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই- বলেন আমীরে জামায়াত।

সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হইনি। বঞ্চিত, নিপীড়িত ও ভাগ্যহত ১৮ কোটি মানুষের অধিকার তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই ঐক্য। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও জনগণের ভাগ্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। শাসকের চেহারা ও ভাষা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি।

মামুনুল হক আরও বলেন, আগে বিদেশী শাসকরা এ দেশ লুট করত, এখন দেশীয় শাসকরাই জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করছে। যারা বেগমপাড়া গড়ে তুলেছে, তারা দেশের মানুষের সঙ্গে আরও বড়ো প্রতারণা করেছে।

জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। আলিয়া-কওমি মাদ্রাসা, পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সব বিভেদ ভেঙে তরুণ সমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল। খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, হাজারো মায়ের কোল খালি হয়েছে, দেড় সহস্রাধিক জুলাই যোদ্ধার রক্তে এই মাটি পবিত্র হয়েছে। সেই আত্মত্যাগকে যারা সম্মান জানাতে পারে না, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে নিরাপদ নয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘ব্যালট বিপ্লব’ আখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো আপোস নয়, কোনো নমনীয়তা নয়।

তিনি ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমি যদি এই আসনের ভোটার হতাম, শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলামকেই ভোট দিতাম। এটি আপনাদের পবিত্র আমানত। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে ৫ আগস্ট যেভাবে আমরা সফল হয়েছি, ১২ ফেব্রুয়ারিতেও ঠিক সেভাবেই সফল হয়ে ১১ দলীয় বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরব। তিনি বলেন, ভোটের দিন মা-বোনসহ সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা ও ভাটারা এলাকার চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও খেটেখাওয়া মানুষই এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ শিক্ষিত বেকারের হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ হলেও কর্মসংস্থানের কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেই।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল না থাকায় সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি প্রাইভেট হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একইভাবে পর্যাপ্ত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষাব্যবস্থাও বেসরকারি খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, যা বছরের পর বছর মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে চলেছে।

ঢাকা-১১ আসনের মূল সমস্যাকে রাজনৈতিক উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় সংকট হলো ভূমিদস্যুতা। শত শত মানুষের জমি, খাস জমি ও সাধারণ জলাশয় দখল করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আগে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও তাদের স্থানীয় নেতারা এসব ভূমি দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করেছে।

নাহিদ আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে ভূমি দখলের টাকা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই পেত। রাজনৈতিক কারণে তারা পরস্পরের বিরোধিতা দেখালেও ব্যবসায়িক স্বার্থে সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, একজন নেতা দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলেও রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মাধ্যমে ভূমি দখলের ভাগ মালয়েশিয়া থেকেই পেতেন।

৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফিরে এসেছেন এবং আগের দখলদারদের জায়গা দখল করে জনগণের বিরুদ্ধে একই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে এই ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার। নাহিদ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা হবে এবং যেসব মানুষ ভূমি হারিয়েছেন, তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকা-১১ নয়, সারা দেশে বিজয়ের ব্যাপারে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আশাবাদী। এই জোটই আগামীর বাংলাদেশে সরকার গঠন ও নেতৃত্ব দেওয়ার ঐক্যজোট।

সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান প্রমূখ।