আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি তৈরি করে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু কমিটির ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি ও খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভারতে অবস্থান করে শিপন বসু তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বারবার ফোনে হুমকি দেন এবং প্রশ্ন তোলেন তিনি হিন্দু হয়ে কেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন। কৃষ্ণ নন্দীর দাবি, ওই ব্যক্তি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন, জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, তার জনপ্রিয়তা ও মনোনয়নে ঈর্ষান্বিত একটি মহল এআই প্রযুক্তিতে ভুয়া ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব সম্পূর্ণ সাজানো, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি এসব অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেন।

কৃষ্ণ নন্দী আরও বলেন, গত ১ ডিসেম্বর খুলনা বিভাগীয় আন্দোলনরত ৮ দলের সমাবেশে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান তাকে দাকোপ-বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করার পরেই একটি সংগঠিত চক্র অপপ্রচার শুরু করে। তার ভাষায়, আমাকে মনোনয়ন দেওয়াই প্রমাণ করে জামায়াতে ইসলামী ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিককে সমানভাবে মূল্য দেয়। তিনি দাবি করেন, তার মনোনয়ন ঘোষণার পর সারা দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়েছে। এর পরপরই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে লক্ষ্য করে মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয়। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ভারতে অবস্থানরত ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগল কমিটির নেতা শিপন কুমার বসু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছে।

তিনি বলেন, আমাকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হিসাবে ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটা অসম্প্রদায়িক দল। দলটির কাছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, উপজাতি কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমাকে প্রার্থী করায় সারা বাংলাদেশে হিন্দুদের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পরই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা প্রপাগান্ডা শুরু করেছে। যা প্রমাণ করে, এটা গভীর ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।

কৃষ্ণ নন্দী বলেন, আমাকে খুলনা-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার আগে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ছিলেন দলের বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। তাকে পরিবর্তন করে আমাকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ আমাকে সমর্থন করেন এবং আমরা একসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারনার কাজ করছি। আমাদের ভিতর কোন ভুল বোঝাবুঝি নেই। তিনি বলেন, আমি খুলনা-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসাবে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা রাখি। বিজয়ী হলে সংসদে দাকোপ-বটিয়াঘাটার আপামর জনসাধারণের প্রতিনিধি হিসাবে সেখানকার উন্নয়নে তিনি ভূমিকা রাখাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে দাকোপ-বটিয়াঘাটার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সবার দোয়া ও সহযোগিতা চান। এসময় ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সহ-সভাপতি হরিদাস মন্ডল, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ মন্ডল, বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বটিয়াঘাটা উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আশরাফ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি আল আমিন গোলদার, ঢাকাস্থ খুলনা ক্লাবের সভাপতি সরদার আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।