দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন হয়েছে হাসিনা সরকারের। জুলাই-আগস্টের এই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১৪০০-এর অধিক ছাত্র-জনতা। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সেই হাসিনা সরকারের নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) ভাষণ দিয়ে জনতার সংসদকে অপবিত্র করছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বারবার শপথ ভঙ্গ করেছে এই রাষ্ট্রপতি। যে সংসদে শহিদের রক্ত মাড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বসেছে, সেই সংসদে হাসিনার নিয়োগকৃত গণহত্যাকারী কোনো রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে পারে না।
গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা ১১০টি সংগঠনের মোর্চা জুলাই ঐক্য মনে করে, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বিএনপি প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং শহিদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে।
২০০৬ সাল থেকে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে গুম-খুনের শিকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আত্মদান এবং রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি। সরকারি দল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একের পর এক জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণের জন্য দাওয়াত করা হলেও বিএনপি জুলাইয়ের শপথ গ্রহণ না করে সরাসরি জুলাইয়ের স্পিরিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাধারণ ছাত্র-জনতা মনে করেছিলেন নতুন স্পিকারের হাতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবে বিএনপি। কিন্তু শপথ গ্রহণ না করে উল্টো ফ্যাসিবাদের ধারক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে দিয়ে ভাষণ দেওয়ানো হয়েছে।
বিএনপির প্রতি জুলাই ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা— ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ। যে জুলাই না হলে তারেক রহমানসহ তার পরিবারকে থাকতে হতো প্রবাসে। যে জুলাই না হলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে থাকতে হতো শিলংয়ে। যে জুলাই না হলে হাসিনার আয়নাঘরে থাকতে হতো শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে। সেই জুলাইকে অস্বীকার করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
নতুন সরকারের মনে রাখা দরকার— শেখ হাসিনার সংসদ ও মসনদকে ঘুরিয়ে দিতে একদিনও লাগেনি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জনতার সংসদ জনতা বুঝে নিয়েছিল। সেই সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করার পরিণতি হবে ফ্যাসিবাদের মতোই।
অবিলম্বে হাসিনার নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে সংসদ কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন (Impeachment) করে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলুপ্তি করতে হবে। অন্যথায় কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। যে ছাত্র-জনতা হাসিনার পুলিশ কিংবা কোনো বাহিনীকে তোয়াক্কা করেনি, সেই ছাত্র-জনতাকে নিয়ে রাজপথে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বাকশাল ও স্বৈরাচাররে জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কিথত নাম-খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও তার পরিবারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেনি ছাত্রজনতা। সেই ছাত্র-জনতা এখনও মাঠে আছে। কেউ যদি মনে করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে, তাহলে তার পরিণতিও তাদের ভোগ করতে হবে।