বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো- দুর্নীতি। যেকোনো মূল্যে আগামীতে বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে এটি হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট- এই দেশের মানুষের কাছে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন। বিগত ১৬ বছর মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, জনগণের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছিল।
গতকাল রোববার দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোর থেকে চট্টগ্রাম-এর বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড থেকে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে দলে দলে নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে। নেতা-কর্মীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ছাপ। এ দিকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় পূর্ণতা পেয়েছিল। পালানো শেখ হাসিন ক্ষমতায় থেকে জনসভা করে টাকা দিয়ে মানুষ এনেও পুরাতে পারেনি মাঠ। কিন্তু আবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর জনসভা মাঠ পূর্ণতা পেল। শুধু মাঠ নয় কদমতলী, সিআরবি, টাইগারপাশ এলাকা ছিল লোকে লোকারন্য। এত বিশাল মাঠে ছিল তপ্তরোদ। কিন্তু তার পরেও নেতা কর্মীদের পূর্ণতা ছিল চোখে পরার মত।
তারেক রহমান বলেন, এই সেই চট্টগ্রাম, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখান থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমির সাথে আমি এবং আমার পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে যে, দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল; কিন্তু সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। আমরা দেখেছি বিগত ১৫ বছর এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি।
এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়- সমগ্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে যাতে করে মানুষের কর্মসংস্থান হবে; মানুষ চাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে। কী সেটি? বাণিজ্যিক রাজধানী। ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার সেই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব, সেটিকে বাস্তবায়ন করবে—যাতে করে এই এলাকার মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ সকল কিছু এখানে বসেই কাজ সেরে নিতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ‘কারণ বিএনপি সরকার অতীতেও প্রমাণ করেছে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যেই সরকার ছিল, তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে আমি আপনাদেরসহ এখানে হাজার-লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেন; তাদেরকে কোনো ছাড় আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়; তাহলে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে কোনো পরিকল্পনাই কাজে দেবে না বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরিসব করতে পারে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘেœ জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।’
নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান সঞ্চালনা অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন,গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী,আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন,আবু সুফিয়ান,হুম্মাম কাদের চৌধুরী,সাঈদ আল নোমান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ প্রমুখ।