এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্নস্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে।
খুলনা, দিনাজপুর, লক্ষীপুর, সিরাজগঞ্জ দেশের বিভিন্নস্থানে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করায় রাতের আঁধারে বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সেসব ঘরে বসবাসরতরা।
খুলনা-৫ আসনের খানজাহান আলী থানাধীন ১ নং আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ার শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন দেখতে পেয়ে আমরা ছুটে আসি। সকলে মিলে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। এর মধ্যে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে।
খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার ভোটের মধ্যে ধানের শীষ পেয়েছে ৯০৫৫ ভোট আর দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১৮৪৪২ ভোট। এই ইউনিয়নে ধানের শীষ ৯৩৮৭ ভোট কম পাওয়ায় এবং খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী ঘোষণা করায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এলাকার দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তারাই মূলত এই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতে ইসলামীর রুকন এবং ইউনিট সভাপতি আর ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালি ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সত্তরোর্ধ্ব শোকর আকুঞ্জি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা বুঝতে না পারলে গভীর ঘুমের মধ্যে আমরা শেষ হয়ে যেতাম। আপনারা এসে আমাদের কাউতে জীবিত পাইতেন না। সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বাঁচিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্টু বিচারের দাবি করেন। তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
খানজাহান আলী থানার এস আই রুবেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাা খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির, খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো, সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন ঘটনাস্থলে যান। এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার ঘটনার সুষ্টু তদন্তপূর্বক দোষিদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় এক জামায়াত কর্মীর বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে বসতঘর ও ভেতরে থাকা মালামাল পুড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের উত্তর সমেষপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নুর হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্লাস ভেঙে ঘরের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ভবনের বিভিন্ন অংশ, ফার্নিচার ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে পাশের বাড়ির রুবেল ও তাঁর স্ত্রী চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ বালতি ও বিভিন্ন পাত্রে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দিনাজপুরে জামায়াত নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
দিনাজপুর সংবাদদাতা : দিনাজপুর সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সদর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি জুয়েল রানার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জুয়েল রানার বাড়ির জানালাসহ আসবাবপত্র পুড়ে যায়। বাড়ীর পাশে থাকা ধানের পুঞ্জ ও আখের ছোবলার ¯‘প পুড়ে ভষ্মিভুত হয়। বাড়ীর লোকজন ভয়ে দিগি¦দ্বিক ছুটতে থাকে। বাড়ীতে রান্নায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। এ ঘটনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে মানতে পারেনি। এলাকাবাসী বলছেন, জুয়েল রানা একজন অতি সাধারন ব্যবসায়ী। এলাকার সব মানুষের মাঝে মিশুক মানুষ হিসেবে পরিচিত। সে জামায়াতে ইসলামীর তথা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একজন নিবেদিত কর্মী। শুধুমাত্র এ কারণে তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয় বরং একটি অপরাধ।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দিনাজপুর সদর উপজেলা আমীর মেহরাব আলী ও উপজেলা সেক্রেটারি মাও: নুরুল্লাহ সরকার। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের মাত্র দুদিন পরেই জুয়েল রানার বাসায় এ ধরনের অগ্নিসংযোগ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। জুয়েল রানা রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক। স্বৈরাচার ফ্যাসিষ্ট আমলে সে বহুবার কারাবরণ করেছে কিš‘ রাজপথ থেকে সরে যাননি। বরং সামনের সাড়িতে থেকে সদর উপজেলার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। স্বৈরাচারের রোষানলে পড়ে ১৭ বছর নিজ বাসায় রাতে ঘুমাতে পারেনি। নিজ বাসাবাড়ি থাকা সত্বেও ঘরের বাইরে জীবন কাটিয়েছে। শুধু তাই নয় জুলাই আন্দোলনে জুয়েল রানা ময়দানে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। নিজে রাজপথে লড়াই করেছে এবং জনগণকে নিয়ে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানা”িছ এবং সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট শাসনামলে জুয়েল রানা দিনাজপুর সদর উপজেলার ২নং সুন্দরবন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা জুয়েল রানা বলেন, রাতে আমার বাসার সামনে যুবদল নেতা পারভেজ পিকনিকের আয়োজন করেছিল। উচ্চঃস্বরে গান বাজনা চলছিল। ধানের শীষের পক্ষে এবং দাঁড়িপাল্লা আর আমার বিপক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছিল পিকনিকে উপস্থিত ডেলিগেটরা। তবে কে বা কাহারা বাসায় আগুন দেয় তা বুঝতে পারিনি।
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নির্বাচন পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতার খরের পালায় আগুন দিয়ে পুড়িয়া ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পৌর সভার ভাদাস গ্রামের আঃ মালেকের ৫টি বড় খরের পালায় গত শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, দুর্বৃত্তরা রাতের আধারে আলহাজ্ব আঃ মালেকের খরের পালায় আগুন ধরয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নেভাতে আসে ততক্ষণে খর সব পুড়ে শেষ। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ড. প্রফেসর মাওলানা আঃ সামাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাড়াশ উপজেলা জামায়াতের আমীর খম সাকলায়েন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা শাহজাহান আলী, পৌরসভায় সভাপতি মাওলানা কাওছার হাবিব, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আবুল বাশার মোঃ ইউনুছ আলী প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন দুবৃত্তকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্তা করতে হবে। এলাকাবাসিরা বলেন, দুবৃত্তদের দেওয়া আগুনে ৫টি খরের পালা পুড়ে যায়। যার মূল্য দেড় লাখ টাকা। তারা বলেন, জনগণের জান মালের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে আমি নিজে গিয়েছি। পরে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুবদলের দোকান ভাঙচুর বিএনপি জামায়াত নেতাদের মধ্যস্থতায় সমঝোতা
ফুলগাজী সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট বাজারে ৪টি দোকান ভাঙচুর করায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ বেলাল তার ভাই হেলাল ও মুন্সীরহাট ইউনিয়ন কৃষক দলের সেক্রেটারি সুমন, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে মুন্সীরহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আনোয়ার। এই ঘটনায় নবনির্বাচিত ফেনী ১ আসনের সাংসদ রফিকুল আলম মজনু অভিযুক্ত সুমনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। গতকাল রবিবার উভয় পক্ষের সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ভিপি ফখরুল আলম স্বপন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন, ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের আমীর, জামাল উদ্দিন চৌধুরী, নায়েবে আমীর আবুল হোসেন মিয়াজি, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া ও সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর, আবুল কালাম শামীম সহ ক্ষতিগ্রস্ত জামায়াত নেতা আনোয়ার ও অভিযুক্ত বেলাল হোসেন, হেলাল, সুমন ও ইলিয়াস।
উভয় পক্ষের আপস মীমাংসার মাধ্যমে সমঝোতা দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার সমাধান হওয়ায় ব্যাবসায়ীদের মাঝে ও এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরছে।