ফেনীতে বিএনপির জনসভামঞ্চ ও মঞ্চের বাইরে, হুড়োহুড়ি আর সামনে যাওয়ার প্রতিযোগীতায় পুরো শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় সাংবাদিকদের উপর হামলা, ধস্তাধস্তি আর চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে। এতে ১৫ সাংবাদিকসহ আহত হন ৪০ জন। তারেক রহমান মঞ্চে উঠার পর তার সামনে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশৃংখলার এক পর্যায়ে তারেক রহমান বিরক্তি প্রকাশ করে বক্তৃতা বন্ধ করে একাকি চেয়ারে বসে পড়েন। ফের উঠে মাইক হাতে নিয়ে কথা বললেও চেহারায় রাগ আর অভিমানের চাপ ফুটে ওঠে। এটি ছিল ফেনিতে তার দ্বিতীয় জনসভা।
রোববার রাতে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিব্রতকর এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমান বক্তৃতা সংক্ষেপ করতে বাধ্য হন।
একই অবস্থা মঞ্চের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষমান বিগত ১৬ বছর গুম ও খুনের শিকার এবং ২০২৪- এর এক দফা আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সাথে সাক্ষাতের সময়।
তিনি বক্তৃতা শেষ করে এসব মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিরাপত্তা বেস্টনি ভেঙ্গে তারা সেখানে ঢুকে পড়ে। তখন বিজিবি, পুলিশ ও সিএসএফ সদস্যরা তারেক রহমানকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেন।
এর আগে তারেক রহমান যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন একদল পুরো নিরাপত্তা বেস্টনি উপড়ে ফেলে মঞ্চের দিকে ছুটেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন মঞ্চেও উঠে পড়েন। জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল একজনকে গলা চেপে ধরে মঞ্চ থেকে উড়িয়ি ফেলে দেন। এছাড়া মঞ্চে থাকা অন্য নেতারাও চাপ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন।
এদিকে জনসভা মঞ্চ ও নিরাপত্তা বেস্টনি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতো তিন জেলার নেতাকর্মীরাও ক্ষুদ্ধ। এছাড়া বক্তৃতার ক্ষেত্রেও মানা হয়নি প্রটোকল। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নাল আবদিন, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার পরে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক রফিকুল আলম মজনু।
এ নিয়ে নেতাদের পাশাপাশি তাদের কর্মী সমর্থকরা ক্ষোভ জানান। এসব কারণে অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফেনীর সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। অনেকের মোবাইল, মানিব্যাগ চুরি হয়ে যায় সভাস্থল থেকে।
এদিকে, মঞ্চসহ পুরো সভার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের চুক্তি দেয়া হয়েছিলো জেলা আওয়ামী লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত সোহেলকে। এ কারণে অনেকে মনে করছেন জনসভা নিয়ে এক ধরণের নাশকতার চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ১৫ সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০জন আহত হলেও বিএনপির কোনো নেতা খোঁজ নেননি। তবে আহত নেতাকর্মীদের মঞ্চের অদূরে মসজিদের ভেতর ৫ জনকে নিয়ে শুইয়ে রাখতে দেখা গেছে।
এছাড়া আমন্ত্রণ জানালেও শুনা হয়নি জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের কথা। তাদের সাথে কয়েক সেকেন্ড কথা বলেই অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়েত উলামেয়ে ইসলামির ফেনী জেলার সভাপতি শায়খুল হাদিস হাফেজ মাওলানা মুফতি তাহের সাইদকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালেও মঞ্চে উঠতে পারেননি তিনি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল। তিনি বলেন, পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসব অভিযোগ নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন বলেন, অতি আবেগের কারণে কর্মীরা মঞ্চের দিকে ছুটে আসেন নেতাকে কাছ থেকে দেখার জন্য। আর বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রটোকল না মানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন এটি বড় শোডাউনের কারণে ভঙ্গ হযে গেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, বড় জনসভা হওয়ায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন ছিল নেতাকর্মীরা। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক।