৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান গতকাল সোমবার এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি নামের মহামারী আমাদের সম্ভাবনাকে গ্রাস করে নিচ্ছে। জনগণের অধিকার লঙ্ঘন, প্রশাসনের অকার্যকারিতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুণ্ঠন এবং সামাজিক বৈষম্যের মূল শেকড় এই দুর্নীতি। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স-এটাই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি, সবচেয়ে বড় জনআকাক্সক্ষা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পরিচ্ছন্ন, নৈতিক এবং স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষের শক্তি। সকল বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী সর্বদা সোচ্চার ছিল এবং থাকবে। আমীরে জামায়াত আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশের মানুষ শৃঙ্খলা, ন্যায়, সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই- যেখানে ক্ষমতা নয়, যোগ্যতা কথা বলবে; স্বজনপ্রীতি নয়, সৎ মেধার প্রতিফলন ঘটবে এবং ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনপ্রত্যাশার নতুন এই অধ্যায়ে প্রশাসনকে হতে হবে ন্যায়নিষ্ঠ, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল এবং জনবান্ধব। দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততার স্বাক্ষর রেখে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করতে হবে, যা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবে। আমীরে জামায়াত দেশের সর্বস্তরের জনগণ, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি দৃপ্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, জুলাই বিপ্লবের চেতনায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই এবং দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক

এদিকে গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইইউ দূতাবাসে এক সৌজন্য বৈঠক করেন। প্রতিনিধি দলে ইইউ রাষ্ট্রদূত মি. মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত মি. নিকোলাস উইকস, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মি. হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোট্জ, ইতালির রাষ্ট্রদূত মি. অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো, ফ্রান্সের উপ-রাষ্ট্রদূত মি. ফ্রেদেরিক ইনজা, নেদারল্যান্ডসের উপ-রাষ্ট্রদূত মি. থাইস উডস্ট্রা, ইইউ-এর উপ-রাষ্ট্রদূত গং. বেইবা জেরিনা, ইইউ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মি. সেবাস্টিয়ান রাইগার-ব্রাউন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে অর্থবহ করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইইউনিয়ন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, শিক্ষাবিদ, গবেষক প্রফেসর মোকাররম হোসেন ও জুবায়ের আহমেদ এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

ব্রুনাইর হাইকমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ

এদিন বাংলাদেশ জামায়াতের আমীরের সঙ্গে তাঁর বসুন্ধরার কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রুনাইর হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন ওসমান সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি মি. রোজাইমি আব্দুল্লাহ। অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে ২৪-এর গণবিপ্লব-সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর গঠনমূলক ভূমিকা তুলে ধরা হয়। ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন ।