আরিফ আহাম্মেদ, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই মুহূর্তে একটি দল যেই স্বৈরাচার পালিয়েছে সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপির বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য যে বিএনপি দুর্নীতিতে নাকি চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুইজন সদস্য সরকারে ছিল তাহলে বিএনপি যদি এতো খারাপ হয় তাহলে তাদের দুজন সদস্য কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেনি। এজন্য তারা পদত্যাগ করে আসেনি কারণ তারা ভালো করেই জানতো যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে এবং তারা ভালো করেই জানতো যে খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়না।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, জামালপুর ও শেরপুরে বহু সমস্যা রয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নদীভাঙন সমস্যা আছে, কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ব্রিজ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, কালভার্টের সমস্যা রয়ে গেছে। যেগুলো দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার বা নতুন করে করার দরকার ছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। না হওয়ার কারণ ভোটের অধিকার ছিল না। যদি ভোটের অধিকার থাকতো, তাহলে জনগণের সমস্যা সমাধান হতো। যেহেতু নিশিরাতে তথাকথিত নির্বাচন হয়েছিল, তাই তখন সত্যকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই যুবক সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি’

তিনি বলেন, ‘তরুণ-যুবকরা চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। দেশে মিল-ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য হবে, যাতে তারা নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরি করতে পারে। মানুষ চায় অসুস্থ হলে যেন চিকিৎসা সুবিধা পায়।’

ময়মনসিংহে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ময়মনসিংহের মাছের পোনা সরবরাহ করা হয়। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কী করে মাছের পোনার বিষয়টি শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশেও রপ্তানি করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি করেছিল। সেই মা-বোনেরা শিক্ষিত হয়েছে। এখন আমরা যে কোনো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই, দেখবো সমান সংখ্যক মেয়ে লেখাপড়া করছে। আজ জনসংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি নারী। আমরা দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে দেশের জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেজন্য খেটে-খাওয়া নারী, গৃহিণী ও মা-বোনদের একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। যাতে এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের কাছে অল্প হলেও সুবিধা পৌঁছাতে পারে। এতে তারা প্রতি মাসের কয়েকটি দিন হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করতে পারবে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘একইভাবে মৎস্য চাষি, ক্ষেত-খামারে চাষবাস করেন এরকম কৃষক ভাইদের পাশেও আমরা দাঁড়াতে চাই। সেজন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। কারণ, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়, কীভাবে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে মানুষকে নিরাপদে রাখতে হয়।’

মাদক সমস্যা সমাধান করতে হলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাই যুবকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের উন্নতির জন্য আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা হাসপাতালগুলো বড় করতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী মাসের ১২ তারিখ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে চলে আসলে চলবে না, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।’

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল এবং বিভাগের সবগুলো আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।