নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিজয় অর্জন করেছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী।

এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১০ জনই নতুন মুখ। অর্থাৎ তারা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত দুই প্রার্থীর একজনও নতুন মুখ হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন। তিনি ২০১৪ সালে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম ১১ (বন্দর পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ১৯৯১ সালে তৎকালীন নির্বাচনী এলাকা ৮ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও বন্দর) আসনের উপনির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি একই এলাকা থেকে জয়লাভ করেন।

চট্টগ্রাম ৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীকে টানা চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়েছেন। তিনি এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন, অষ্টম সংসদ নির্বাচন (২০০১) এবং নবম সংসদ নির্বাচন (২০০৮)-এ বিজয়ী হন।

চট্টগ্রাম ৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী টানা তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন থেকেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম ১৩ (আনোয়ারা কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালের দুটি সংসদ নির্বাচন (ষষ্ঠ ও সপ্তম) এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও জয়লাভ করেছিলেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম ১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে জয়ী হন।

গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলার ১০টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। নগরী ও সংশ্লিষ্ট পাঁচটি আসনের ফলাফল বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন জিমনেসিয়াম নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ঘোষণা করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

আসনভিত্তিক বেসরকারি ফলাফল চট্টগ্রাম ১ (মীরসরাই) আসনে বিএনপির নুরুল আমিন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।

চট্টগ্রাম ২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।

চট্টগ্রাম ৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ৭৩ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের আলাউদ্দীন সিকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৬৬২ ভোট।

চট্টগ্রাম ৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক আংশিক) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিক পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।

চট্টগ্রাম ৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনির পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭০৮ ভোট।

চট্টগ্রাম ৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৭ ভোট।

চট্টগ্রাম ৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতের ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম ৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ ৭৯ হাজার ২০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের ডা. আবু নাসের পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।

চট্টগ্রাম ৯ (কোতোয়ালী) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম ১০ (ডবলমুরিং পাহাড়তলী খুলশী) আসনে বিএনপির সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। জামায়াতের মুহাম্মদ শামসুজ্জমান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম ১১ (বন্দর পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট।

চট্টগ্রাম ১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির এনামুল হক এনাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট।

চট্টগ্রাম ১৩ (আনোয়ারা কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট।

চট্টগ্রাম ১৪ (চন্দনাইশ সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এলডিপির অধ্যাপক ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

চট্টগ্রাম ১৫ (লোহাগাড়া সাতকানিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।

চট্টগ্রাম ১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট।