এ কে এম আব্দুর রহিম, বোরহান উদ্দিন, সেলিম উদ্দিন নিজামী, রেজাউল করিম রাসেল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। চিরদিন রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে এই পারিবারিক সংস্কার আমরা ভাঙতে চাই। আমরা চাই একজন কৃষকের ছেলেও তার যোগ্যতা বলে মন্ত্রী হবে। তিনি বলেন, আমরা আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাতে চাই। তিনি আবরার ফাহাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের ফেনী নদীর কথা বলার কারণে শহীদ আবরারকে জীবন দিতে হয়েছে। আবরারকে বুকের গভীরে সব সময় লালন করবেন। ’২৪ এর ভয়াবহ বন্যার সময় ফুলগাজী পরশুরামের বন্যার্ত মানুষের দুর্দশার কথা বর্ণনা করে ডা. শফিক বলেন, তাদেরকে সহানুভূতি জানাতে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। তাদের জন্য কিছুই করতে পারিনি শুধু বন্যার পানিতে চোখের পানি মিশিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তার কিছুদিন পর আবার পরশুরামের বল্লামুখা বাঁধ পরিদর্শন করতে এসেছিলাম। যে বাঁধ কেটে দেয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল সেই ভয়াবহ বন্যা।

তিনি গতকাল শুক্রবার সকাল ১১ টায় ফেনীর ঐতিহাসিক সরকারী পাইলট হাইস্কুল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে উক্ত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনীর দুই আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলি ভূঁইয়া।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন, ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ফেনী- ৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিক, ছাত্রনেতা মাজহারুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, সাবেক ফেনী জেলা আমীর একেএম শামসুদ্দিন, জেলা নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক আবু ইউসুফ, অপর নায়েবে আমীর মাওলানা মাহমুদুল হক, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিল্লাত, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সেক্রেটারি মোঃ ইসমাইল, ফেনী জেলা শিবিরের সভাপতি আবু হানিফ হেলাল, শহর শিবিরের সভাপতি ওমর ফারুক।

জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের রেজাউল করিম, আমাদের ওসমান হাদীরা কি দোষ করেছিল? তারা ছিল প্রকৃত বীর। বীরেরা জীবন দেয় কখনো পালায় না। এসব বীরদের উত্তরসুরিরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেব না আমরা তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিব। এ দেশের হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলে যেন মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে নির্ভয়ে বাস করতে পারে আমরা সেই বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই ইনসাফের বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, একটি সুখীসমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ আমরা বিনির্মাণ করতে চাই যেখানে চাঁদাবাজি থাকবে না, সন্ত্রাস থাকবে না, দখলবাজি থাকবে না। তিনি মহিলাদের মর্যাদার বিষয়ে বলেন যে মায়ের পেট থেকে জন্ম নিয়েছে সে মায়ের গায়ে যারা হাত তুলছে তারা সতর্ক হও। মায়েদের বেইজ্জতি আমরা কখনো মেনে নেব না। মায়েদের সম্মান এবং মর্যাদা সর্বাগ্রে। তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে সংযত হন।

নোয়াখালী জেলা সংবাদদাতা : ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দল আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে নোয়াখালীবাসীর ৬ টি প্রাণের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জননেতা ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দুনিয়ায় এমন কোনো সভ্য দেশ নেই যেখানে নোয়াখালীর মানুষ নেই।

তিনি বলেন, এই নোয়াখালী জেলার আলেম-ওলামাগণ দ্বীন ইলমের খেদমত কেবল নোয়াখালীতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া- যেখানেই যাবেন, সেখানেই জানতে পারবেন তাদের পূর্বপুরুষদের দ্বীনি শিক্ষা দিয়েছিলেন নোয়াখালীর আলেম-ওলামারা।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সেই গর্বিত এলাকার মানুষ। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি- এইসব আলেম-ওলামাকে মাদরাসা ও মসজিদের ওছিলায় দুনিয়া ও আখিরাতে আরও মর্যাদা বাড়িয়ে দিন। দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশ নেই, যেখানে নোয়াখালীর মানুষ পাওয়া যাবে না। এটি আপনাদের কৃতিত্ব। এই এলাকার মানুষ লড়াকু মানুষ।

শফিকুর রহমান বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছে, তাদের হাতে দেশ গেলে ভালোবাসার একটি দেশ তৈরি করা সম্ভব। মানুষ তা বুঝতে পেরেছে। তাই সারা বাংলায় এখন বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়েছে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। শুধু নোয়াখালী নয়, সারা বাংলায় আমি যেখানে যাচ্ছি, মানুষের ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছে, সেই যুবসমাজ ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। তারা বুঝতে পেরেছে, জুলাই চেতনার আকাঙ্ক্ষা কারা বাস্তবায়ন করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু হয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দরদের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পে-কমিশনকে বলব- যথাযথ সুপারিশ আমাদের কাছে দিন, যাতে একজন মানুষ সরকারি চাকরি করার পর দ্বিতীয় কোনো রুজির সন্ধান করতে না হয় এবং টেবিলের নিচে হাত দিতে না হয়। এরপর যারা সততার পথ ছেড়ে দেবেন, সংশোধন না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জামায়াতের আমীর আরও বলেন, এদের চেহারা বড়ই মায়াবী, এরা সমাজ সেবক এরা খোদাভীরু । ১১ দলের যারা প্রার্থী আছেন, তাদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও রয়েছে। যাদের যে প্রতীক দেওয়া হয়েছে, সেটিই ১১ দলের প্রতীক। ১১ দলের কর্মীদের কোনো চাওয়া-পাওয়া বা মান-অভিমান থাকলে আজ আমি দু’হাত তুলে তা নিয়ে যেতে চাই। মিলেমিশে লড়াই করে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং মা-বোনদের গায়ে হাত তোলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, ভোটগুলো তুলে আনতে হবে।

নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’সুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, ১১ দলীয় জোটের সঙ্গী দল গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধান, নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ছাইফ উল্লাহ, নোয়াখালী-২ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন এবং নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।

জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নোয়াখালী জেলা স্কুল ময়দানে সকালে উক্ত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই হাজার হাজার জনগণের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় ভরে যায় এবং আশেপাশের সড়ক, অলিগলিতে, দোকানপাটে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

১১ দলীয় জোটের জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ উক্ত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নোয়াখালী জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নোয়াখালী জেলা সভাপতি মোসাদ্দেকুল মাওলা, খেলাফত আন্দোলন জেলা সভাপতি ইউসুফ আল মাদানী, লেবার পার্টি সভাপতি জহিরুল হক জহির, এলডিপির জেলা সভাপতি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন, এনসিপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল প্রমুখ।

শফিকুর রহমান আরো বলেন, এগারোদলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালীকে বিভাগ করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘নোয়াখালীর অনেকগুলো ন্যায্য দাবি আছে। আমি সেই দাবিগুলো এখানে পেয়েছি। নোয়াখালীবাসী বিভাগ চায়, সিটি কর্পোরেশন চায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের মাধ্যমে আপনাদের এই প্রাণের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।’

ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালীর উন্নয়নে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের দাবির পাশাপাশি হাতিয়া-কোম্পানীগঞ্জ-সুবর্ণচর নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, কোম্পানীগঞ্জ-ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে।’

সুবর্ণচরের এক নির্যাতিতা মায়ের স্মরণে তিনি বলেন, ‘সুবর্ণচরে একজন দুখিনী মা, যাকে হায়েনারা কষ্ট দিয়েছিল ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে, ওই মায়ের সম্মানে সেখানে আমরা নির্বাচিত হলে পৌরসভা করব ইনশাআল্লাহ।’

নির্বাচন ও প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ দুটি ভোট হবে। প্রথম ভোটটি হবে সংস্কার ও আজাদীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আর দ্বিতীয় ভোটটি হবে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আগামী ১৩ তারিখ থেকে এক নতুন বাংলাদেশ দেখবেন। গত দেড় বছর যারা ধৈর্য ধরতে পারেননি এবং অধৈর্য হয়ে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন, তাদের জন্য অশনিসংকেত শুরু হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকেই মজলুম ছিলাম। কিন্তু যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই অধৈর্য হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। আমরা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে এবং এদেশের প্রতিটি মানুষকে ভালোবাসি। প্রতিটি ধর্মের লোক আমাদের ভাই। আমাদের ওপর হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে, কিন্তু আমরা কারও ওপর পাল্টা মিথ্যা মামলা দেয়নি বা মামলা বাণিজ্য করিনি।’

জনসভায় তিনি নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল্লাহ, নোয়াখালী-৩ আসনের মাওলানা বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৪ আসনের মো. ইসহাক খন্দকার এবং নোয়াখালী-৫ আসনের বেলায়েত হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং নোয়াখালী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া ও নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির প্রার্থী হান্নান মাসুদের হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।

সেলিম উদ্দিন নিজামী, লক্ষ্মীপুর থেকে জেলা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ও ১১দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে এ জোটকে নির্বাচিত করে তাহলে আমরা এ জাতিকে আর বিভক্ত হতে দিবো না। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আয়োজনে শহরের লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত বলেন, আমরা যুবদকের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই। যুবকরা, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিবো না। তোমরা বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য কোনো দাবি জানাও নাই। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমাণিত করতে চাই না। আমরা তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, জুলাই যুদ্ধে যারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, তাদের সকলকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। আমরা কথা দিয়েছিলাম, আমরা জুলাইযোদ্ধাদের আমাদের অন্তরে জায়গা করে দিবো। আমরা কথা রেখেছি। আমরা জুলাইকে কবুল করে নিয়েছি। এ জুলাই এসে জনগণকে মুক্তি দিয়েছে। জুলাই এসেছিলো বলেই আজকে আমি এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। জুলাই এসেছিলো বলেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ কেউ আছেন জুলাইযোদ্ধাদের স্বীকার করতে চান না। যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, যাদের কারণে অনেকের দেশে ফিরে আসা, যাদের কারণে নির্বাচনের কথা বলা, যাদের কারণে দেশ শাসনের কারও কারও স্বপ্ন দেখা। তারা তাদেরকে অস্বীকার করছেন, লজ্জা! এটা মেনে নেয়া যায় না।

জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি এডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

কুমিল্লা অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জুলাই যোদ্ধারা তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না। আপনারা এক সময় মজলুম ছিলেন। এখন আপনারা জালেম হওয়ার চেষ্টা করবেন না। মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করবেন না। রাজার ছেলে রাজা হবে এই প্রথা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি বলেন, কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। যেহেতু ঘোষণা দিয়েছি এটা পবিত্র দায়িত্ব। অন্য কেউ যদি সরকার গঠনও করে এটা আমরা করাতে বাধ্য করব। দেশে চারটা বিভাগ ছিল, বেড়ে বেড়ে আটটা হয়েছে, দশটা হবে, বারোটা হবে, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হতে হবে।

কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি করা হয়েছে। এখানে একটা ইপিজেড আছে। আমি বিশ্বাস করি ইপিজেডকে যদি আন্তর্জাতিক মানের রূপান্তর করা যায় তাহলে বিমানবন্দরটাকেও সচল রাখা যাবে। কুমিল্লার সবকটি দাবি যুক্তিসঙ্গত। আমরা কথা দিচ্ছি কোন এলাকাকে অযৌক্তিক কারণে বঞ্চিত করব না।

শুক্রবার কুমিল্লা পৃথক ২টি জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এ কথা।

তিনি সন্ধা ৬টায় কুমিল্লা লাকসাম স্টেডিয়াম রাত ৮টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, আগের একটি সরকার দেশ এবং জাতির উপরে প্রতিশোধের রাজনীতি করেছে। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করবো না। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিকে হারাম মনে করি। রাজনীতি হবে নীতির রাজ। ওই নীতি দিয়েই দেশ পরিচালনা করব।

যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ। কিন্তু আমরা কথা দিয়ে কথা রাখবো।

তিনি বলেন, সবচাইতে মজলুম দলের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। আর কোন দলের এক থেকে ধরে ১১ পর্যন্ত খুন করা হয় নাই। আর কোন দলের অফিস তালা দেওয়া হয় নাই। আর কোন দলের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয় নাই। আর কোন দলকে নিষিদ্ধ করা হয় নাই। আর কোন দলের নেতার বাড়ি বোল্ডেজার দিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয় নাই। একমাত্র জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে তা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি গুমের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

শহীদদের রক্ত এবং যুবসমাজের তাজা রক্তে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি আমরা কারো উপর প্রতিশোধ নেব না। কেউ অপরাধ করলে আইন তার বিচার করবে। আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। এত নির্যাতিত হওয়ার পরও আমরা কথা দিচ্ছি কারো উপর প্রতিশোধ নেব না। আমরা বলে যাচ্ছি একজন নাগরিক ও যেন কোন মামলায় হয়রানির শিকার না হয়। আমরা বিশ্বাস করি কেউ আমাদের উপর জুলুম করে থাকলে আখেরাতের ময়দানে এর বিচার পাবো।

তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা প্রত্যেকটা শহীদ পরিবারের কাছে গিয়ে হাজির হয়েছি। আমরা বলেছি আজ থেকে আমরাও আপনাদের পরিবারের সদস্য। গণঅভ্যুত্থানে দেশের বহু নিরপরাধ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজকে আমরা কথা বলতে পারছি।

তিনি বলেন, আগামীতে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টও ছাড় পাবে না। অপরাধ করে কেউ দায় মুক্তি পাবে না।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কোন দলের আনুকূল্য করবেন না। দেশের মানুষের পক্ষে থাকুন।

মিডিয়া উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনারা জাতির চোখ, দর্পণ, আয়না। মিডিয়া জাতির বিবেক। আপনারা অন্যায়কে সমর্থন করবেন না। আমরা চাই আপনারা ন্যায়ের পক্ষে থাকেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকেন। কল্যাণের পথে থাকেন।

জামায়াত সরকার গঠন করলে সরকারি খরচে মেয়েরা মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করবে।

বক্তব্য শেষে তিনি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা অঞ্চল পরিচালক মাওলানা এটিএম মা’ছুম, , ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কাইয়ুম, এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক কুমিল্লা -৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। জাগপার সভাপতি ইন্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমীর ও কুমিল্লা -আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এর সভাপতিত্বে মহানগর সেক্রেটারী মু.মাহবুবর রহমান এর পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় মজলিশ শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট, উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা -১০ আসনের

দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, কুমিল্লা -৮ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ড.শফিকুল আলম হেলাল,কুমিল্লা -৫ দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ড.মোবারক হোসেন,

কুমিল্লা -৭:আসনে ঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা সোলায়মান খান,কুমিল্লা -৩ দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল, কুমিল্লা -২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা,কুমিল্লা -১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুল।জাকুসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম,কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর যথাক্রমে মু মোছলেহ উদ্দিন ও অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, এনসিপি অঞ্চল সমন্বয়ক নভিদ নৌরজ শাহ,খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মো.সোলায়মান, এবিপাটি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান,কুমিল্লা মহানগরী সহকারি সেক্রেটারী যথাক্রমে কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিল মোশারফ হোসাইন, নাছির আহম্মেদ মোল্লা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি

মোজাম্মেল হোসেন আবির,কুমিল্লা মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি হাসান আহম্মেদ,

লাকসামে নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।

লাকসাম নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

কুমিল্লা-৯ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, , সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি অধ্যাপক রেজাউল করিম,

কুমিল্লা-১০ আসনে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন পরিচালক ডঃ দেলোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুল হক আমিনী,

ঢাকা দক্ষিণ জেলা জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান সোহাগ, সাবেক ছাত্রনেতা নোমান হোসেন নয়ন, ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতা মুহাম্মদ সিরাজুল হক, খেলাফত মজলিশ লাকসাম উপজেলা সভাপতি মুফতি মাহবুবুর রহমান, এনসিপি কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক ব্যারিস্টার মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোহরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন, কুমিল্লা-৯ আসনে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন পরিচালক ও লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব ও উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ জহিরুল ইসলাম, মনোহরগঞ্জ উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা নূরুন্নবী, কুমিল্লা জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।