কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে -এই অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল মেধাভিত্তিক ও দক্ষ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা।

কিন্তু বর্তমান গভর্নর নিয়োগ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার দাবি, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, নিয়োগের অল্প সময় আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও জানা গেছে।

গোলাম পরওয়ারের মতে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যিনি নিজের মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রানীতি রক্ষা করবেন?

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কোটা আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের দাবি ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তনের আহ্বান।

যোগ্যতা উপেক্ষা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক-এর স্বাধীনতা অবসানের সংকেত দিচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।