খালেদ হাসান সিপাই, আকতারুজ্জামান, এফ এ আলমগীর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সমস্ত মানুষের মুক্তির জন্য চিন্তা করি। আমরা খাবারের জন্য চিন্তা করি না এবং দলীয় কর্মীদের পেট ভরার জন্য আমরা রাজনীতি করি না। বরং এ দেশের অভাব, দুঃখী মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পারি এবং গায়ে একটু কাপড় দিতে পারি। আমাদের ভিশন এই মজলুম জাতিকে একটুখানি মুক্তির স্বাদ দেয়া। এটাই হবে আমাদের সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিুর রহমান বলেন, আমাদের ভাই-বোনদেরকে স্বস্তিতে এক জায়গায় স্থির থাকতে দেয়া হয়নি। আমরা দল হিসেবে কতটা মজলুম ছিলাম। এই অঞ্চলে আমাদের বোনদেরকে দফায় দফায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে অপমান করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে মায়েরা ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, মানবতার পক্ষে আল্লাহর দীনের আওয়াজ তুলতে ঘরে ঘরে যান। কিছু লোক এটা সহ্য করতে পারে না। তাদের বিরক্ত করে, অপমানজনক আচরণ করে, কষ্ট দেয়- এমনকি দিশেহারা হয়ে দু’এক জায়গায় তাদের গায়েও হাত দিয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে কোনো কিছুর বিনিময় আমরা মায়েদের সম্মান রক্ষা করব, হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান।
আমীরে জামায়াত বলেন, খনন না করায় পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন এক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদী খননের জন্য প্রতি বছর বাজেট থাকে। সমস্ত টাকা পেটে চলে যায়। নদী আর খনন করা হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে এই একই কাজ তারা করেছে। এ দেশ সবার এবং সবাই মিলে রক্ষা করতে হবে।
চব্বিশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমরা কারো উপর কোন প্রতিশোধ নেইনি। আমরা বলেছিলাম অন্যায়ভাবে কাউকে মামলার আসামী করা হবে না। আমরা অন্যায়ভাবে কাউকে একটা মামলারও আসামী করিনি। বাংলাদেশে হাজার হাজার মামলা আমরা দায়ের করি নাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগেস্টর পরে মামলা বাণিজ্য শুরু হয়ে গেলো। জাগায় জাগায় দখলদারি, অনেক ভাইয়েরা নেমে পড়লেন চাঁদাবাজি করতে। আমরা বলতে চাই, আপনাদের সংসারে অভাব-অনাটনের কারণে যদি করে থাকেন- তাহলে আপনারা এখান থেকে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন ওটাই আমরা ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি। তবুও চাঁদাবাজি করবেন না।
মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, এই বাংলাদেশে প্রত্যেকটি পুরুষ এবং নারীদেরকে মর্যাদার কাজ তুলে দিবো। বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের হাতে। তাদের এই যৌবনের শক্তি দিয়ে তারা যেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
দেশের সংকট দূর করতে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমীরে জাময়াত বলেন, আমরা তিনটা জায়গায় কাজ করবো- যোগাযোগ উন্নত করা, দ্বিতীয় সিন্ডিকেট ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়া আর চাঁদাবাজিতে যারা লিপ্ত-তাদের ভালো কাজ দিয়ে বুকে টেনে নেয়া। তিনি বলেন, এই তিনটি কাজ যদি আমরা সফলভাবে আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে করতে পারি- তাহলে আমরা বিশ^াস করি এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন দেখবে।
কুষ্টিয়া অঞ্চলের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া চিনিকল ছিলো- এখন বন্ধ হয়ে আছে। ইন্ডাস্ট্রির বিস্তার ঘটছে আর একটা একটা করে তালা ঝুলানো হচ্ছে। জামায়াতের সাবেক আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী যখন শিল্প মন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ থেকে কোনো সরকারি কল-কারখানায় তালা ঝুলবে না। বরং ঝুলন্ত তালা যেখানে আছে সেগুলো খুলে দিবো আমি এবং তিনি তাই করেছিলেন। বন্ধ কল-কারখানাগুলো খুলে দিয়ে মাত্র আড়াই বছরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, উল্লেখ করেন আমীরে জামায়াত।
ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা বিশ^াস করি বাংলাদেশের জনগণ যদি আমাদেরকে সুযোগ দেয়, তাহলে সকল সেক্টরে বিপ্লব ঘটবে।’
আমীরে জামায়াত বক্তব্যের শুরুতে সদ্য ইন্তিকাল করা কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবুল হাশেমকে স্মরণ করে তার অবদানকে কবুল করে মাগফিরত কামনা করেন। এসময় তিনি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীকেও স্মরণ করে তার মাগফিরাত কামনা করেন।
শহীদ আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহামান বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সে নিজেই একটা বিদ্রোহী, একটা বিপ্লবের নাম। সে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলো। এটাই তার অপরাধ। এজন্য তাকে দুনিয়া থেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে বিদায় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আধিপত্যবাদীরা তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কেউ আওয়াজ তুলুক এটা পছন্দ করে না। তবে চব্বিশের দ্রোহ এটা প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না। যাদের নেতৃত্বে এই জাতি চব্বিশের লড়াই করে মুক্তি পেয়েছে। চব্বিশের সকল যোদ্ধাদেরকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আমীরে জামায়াত।
তিনি আরও বলেন, এখানে দাঁড়িপাল্লা হচ্ছে এগারো দলের প্রতীক। দাঁড়িপাল্লা হচ্ছে ইনসাফের প্রতীক। অতীতের সরকারগুলো পাল্লা সহ্য করতে পারেনি। এজন্য পাল্লাকে তারা গুম করে ফেলেছিলো। পাল্লা আয়নাঘরে থেকে মুক্তি পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। পাল্লার বিজয় হলে সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম হবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, বিভিন্ন নারীদের উসকানি দেয়া হয়, পাল্লার বিজয় হলে আপনাদের কেমন লাগবে, এখন মায়েরা বলছে ভালো হবে। যুবসমাজ এবং মায়েরা বিশেষ করে বস্তাপঁচা রাজনীতি আর দেখতে চায় না। মায়েরা যেভাবে পাল্লা বিজয় করতে চায়, সেভাবে মায়েদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আমাদের কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, আমীরে জামায়াত বলেন, সকলের সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যাতে আপনারা গর্বের সাথে বলতে পারেন আমি বাংলাদেশী। আমরা দেশে বেকার রাখতে চাই না। প্রত্যেকের কর্মের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে চাই। শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে মেধা সম্পন্ন জাতি গড়তে চাই। আমাদের শিক্ষা হবে কর্মমুখী ও মানবিক। সেই আলোকেই আমরা দেশ গড়তে চাই।
বক্তব্যের শুরুতেই আিমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান জুলাই শহীদ যোদ্ধাদের স্মরণ করেন। সম্প্রতি জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা আমীর মরুহম অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। সেই সাথে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের মরহুম শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
শহীদ আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে আমীরে জামায়াত বলেন, সে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সে নিজেই একটি বিদ্রোহ, বিপ্লবের নাম। সে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলো। এটাই তার অপরাধ। এ কারণেই তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে। দেশের সর্ব্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে বিদায় করা হয়েছে। তারা যে আচরণ করেছে তা কোন মানুষ করেনা। এটা সাধারণ কোন পশুও করেনা।
জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলার ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, গনতান্ত্রিক পার্ঠির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের প্রার্থী মুফতি আমীর হামজা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, জামায়াতের কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়া-৪ খোকসা কুমারখালী আসনের প্রার্থী আফজাল হুসাইন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী সিবগাতুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা আমীরুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান,
জাতীয় নাগরিক পার্টির ইমাম নোমানী রাজু, এবি পার্টির কুষ্টিয়া জেলা যুগ্ম আহবায়ক বেলাল মাহমুদ, শিবিরের ইবি সভাপতি ইউসুফ আলী, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাবেক কুষ্টিয়া সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান, শিবিরের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শিবিরের কুষ্টিয়া শহর সভাপত আবু ইউসুফ। পরিচালনা করেন জামায়াতের শহর আমীর এনামুল হক।
সমাবেশ শেষে কুষ্টিয়ার ৪টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান। কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ বেঅল হুসাইন, কুষ্টিয়া-২ মিরপুর ভেড়ামারা আসনে আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে মুফতি আমীর হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনে আফজাল হুসাইনের নিকট দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে ১১ দলের নেতৃবৃন্দকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
আমরা ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের উপরে হাত দিব না
মেহেরপুর সংবাদদাতা জানান জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের উপরে হাত দেবেনা। আল্লাহর নামে কসম করে শপথ করেন তিনি।
গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজি দুর্নীতি বন্ধ হবে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। একই সাথে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আমিরে জামাত।
মেহেরপুর কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন সারা বাংলাদেশের কৃষকরা অবহেলিত। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়না। আগামীতে কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য ফসলের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে। প্রয়োজনে কৃষকের ফসল সরকারের ক্রয় করে নেবে এবং ভর্তুকি মূলের বাজারে রপ্তানি করবে। তাহলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন আমরা বেকার ভাতা দেব না। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে হবে । যেন বাবার ঘাড়ে বোঝা না হয় সন্তান ।
প্রধান অতিথি বলেন মেয়েদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেব। আমরা বলেছি ১০ দলীয় জোট যদি ক্ষমতায় আসে ইনশাআল্লাহ মেয়েদের জন্য ৫ ঘন্টা কর্মসংস্থানে কাজ করবে। এতে করে মেয়েরা ১২ ঘণ্টার টাকা পাবে। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন যারা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সহযোগিতা করছে বাংলাদেশকে সেসব মানুষকে আমাদের দেশে থেকে সোনার মানুষ হিসাবে আমরা স্বীকৃতি দেব। দেশের মানুষ রেমিটেন্স যোদ্ধাদের যুদ্ধদের আজীবন স্মরণ করবে।
তিনি বলেন মেহেরপুর মুজিবনগর মুক্তিযোদ্ধাদের তীর্থস্থান, প্রথম সরকার গঠন করা হয়েছিল এবং সেই সরকার থাকে দলীয় সরকার হিসাবে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করি এবং সম্মান করি তারা আমাদের দেশের সোনার মানুষ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর ও মেহেরপুর ১ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দিন খান।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া যশোর অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মোবারক হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ সিবগাতুল্লাহ সিবগা, মেহেরপুর জেলা কর্ম ও সূরা পরিষদের সদস্য ও গাংনী ৭৪-২ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ন মুখ্য সমন্বয়ক এডভোকেট শাকিল আহমেদ, মেহেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ ইকবাল হুসাইন, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মহাবুব উল আলম, রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা সোহেল রানা, গাংনী উপজেলা আমীর ডাক্তার রবিউল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা আমীর মাওলানা খান জাহান আলী, পৌর আমীর সোহেল রানা ডলার),গাংনীয় উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার জাব্বারুল ইসলাম, সহ ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমিরে জামাতের জনসভা কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই জনসভা স্থলে অবস্থান করছিলেন। কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভা মাঠ। হেলিকপ্টারযোগে দুপুর ১.২০ টার দিকে মঞ্চে আসেন জামায়াতের আমীর। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা, এফ, এ আলমগীর জানান : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একই সাথে ২টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট অপরটি হলো পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষে। হাঁ আজাদী, না মানে গোলামী। হ্যাঁ জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবেনা, দূর্নীতির আর চাঁদাবাজদের কবর রচনা হবে। হ্যাঁ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। তিনি বলেন চুয়ায়াডাঙ্গার মানুষ শিক্ষিত এবং ভদ্র। তারা শান্তি প্রিয়, কিš‘ দূর্বল নয়, মানসিকভাবে খুবই শক্ত। অন্যায়ের বিপক্ষে বজ্র কঠিন এবং ন্যায়ের পক্ষে একেবারেই সরল। তিনি বলেন চুয়াডাঙ্গা থেকে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দুর্নীতিবাজ তাড়াতে হলে ৫ আগস্টের মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী আরেকটি বিপ্লব ঘটাতে হবে। দেশে ন্যায় এবং ইনসাফ কায়েম করার জন্য, দূর্ণীতিমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম করার জন্য, আধিপত্তবাদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য, চাঁদাবাজি ও হয়রানী মূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে তছনছ করার জন্য আগামী এই নির্বাচনী ১১ দলের ২২টি হাত আমরা একত্রিত হয়েছি। তার মানে এদেশের আপমর জনগন একত্রিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান উপরোক্ত কথা বলেন। জামায়াতের চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার স¤পাদক আমীরুল ইসলাম, জাগপার প্রধান রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম স¤পাদক মোল্লা মোঃ ফারুক এহসান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর স¤পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা আহবায়ক তানভীর রহমান অনিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারী মাওলানা জুবায়ের খান, এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি (প্রস্তাবিত) সোহেল পারভেজ, চুয়াডাঙ্গার ওয়ারিয়র্স অব জুলাই এর আহ্বায়ক মাহফুজ হোসেন প্রমুখ। এর আগে বেলা ৩টায় কুরআন
তেলোওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান। এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদসহ উপজেলা আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য বৃন্দ।