বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সময়ে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জ্ঞান, ধৈর্য ও পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতির বিকল্প নেই। তিনি এসব যোগ্যতা অর্জনে জামায়াতের রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল শুক্রবার রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সদস্যদের (রুকন) নিয়ে দিনব্যাপী এক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে একথা বলেন। নগরীর একটি কনফারেন্স হলে এই শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি ও ড. এএইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর এড. আবু মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল। শিক্ষা শিবিরে বক্তারা বলেন, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে কাজ করলে সংগঠন যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে প্রতিটি এলাকায় সুশৃঙ্খল দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। বক্তারা আরো বলেন, সংগঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে তৃণমূল নেতাদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা শিবির এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষা শিবিরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মো. জাহাঙ্গীর, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল ও মো. শাহাদৎ হোসাইনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
রাজশাহী জেলা শাখার শিক্ষাশিবির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার দিনব্যাপী রুকনদের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং অঞ্চল টিম সদস্য ড. আবুল হাশেম। সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. গোলাম মুর্তজা।
প্রধান অতিথি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো আদর্শবান, নৈতিকতাসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল রুকন। তিনি রুকনদের মান সংরক্ষণ, আত্মশুদ্ধি, ব্যক্তিগত নৈতিকতার উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংগঠনের মজবুতি অর্জনের জন্য প্রত্যেক রুকনকে আদর্শিক দৃঢ়তা, তাকওয়া, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংগঠনের দাওয়াতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান তিনি। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান তাঁর আলোচনায় রুকনদের দায়িত্ববোধ, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক আমানতদারির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন রুকনের প্রতিটি দায়িত্ব আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়। তাই নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি রুকনদের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, নিয়মিত আমল এবং আদর্শিক দৃঢ়তা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হামিদুর রহমান আজাদ তাঁর আলোচনায় গণভিত্তি রচনায় দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া এবং উত্তম চরিত্র ও জনসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই সংগঠনের গণভিত্তি সম্প্রসারণের অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি প্রত্যেক রুকনকে দাওয়াতি কাজকে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক অগ্রাধিকারে পরিণত করার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল খালেক শিক্ষা শিবিরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আদর্শিক, নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে সমৃদ্ধ রুকনই একটি শক্তিশালী সংগঠনের ভিত্তি। তিনি সকলকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও থানা থেকে আগত রুকনরা অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন শিক্ষামূলক অধিবেশন, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে শিক্ষাশিবির সফলভাবে সম্পন্ন হয়।