জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শাহাজাহান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না। তাই অবিলম্বে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক আদেশ দিয়ে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে। আগামী নির্বাচনের আগেই গণভোট নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ৫ আগষ্ট পরবর্তী ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির ধারায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, বিএনপি তা ধ্বংস করে দিয়েছে। জুলাই সনদকে আইনগত ভিত্তি না দিয়ে তারা যেনতেন ভাবে একটি নির্বাচন দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। গণভোটে তারা ভয় পায়। গণভোট তো কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চায় না। গণভোট দিয়ে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের বৈপ্লবিক ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। কিন্তু বিএনপি সব জায়গায় নেতিবাচক সম্মতি দিয়ে নির্বাচনকে বিলম্বিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ছাত্র সমাজ যেভাবে সত্য-ন্যায়ের পক্ষে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে তেমনি ছাত্র জনতা সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে রায় দিয়ে দেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করতে চায়। দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রথা বন্ধ করে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা ডাকসু জাকসু এর ন্যায় একবার নির্বাচন দিতে বলে আবার নিজেদের পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন যারা বাধাগ্রস্থ করছে তারা মূলত: কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার দুঃস্বপ্ন দেখছে। জুলাই চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান এ দেশের তারুণ্যসহ জুলাই যোদ্ধা শহীদ পরিবার কখনো বরদাস্ত করবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর রোজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বোয়ালখালীর শহরে অবস্থানরত জনশক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা আমীর ডা: খোরশেদ আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি প্রার্থী মানবিক চিকিৎসক ডা: আবু নাছের।
বোয়ালখালী উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা ইয়াছিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য জনাব জাফর সাদেক, মহানগরী আমীর পরিবেশ বিজ্ঞানী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী ও অধ্যাপক শওকত ওসমান চৌধুরী।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা সহকারী সেক্রেটারী মুহাম্মদ জাকারিয়া, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরিফুর রশীদ, বোয়ালখালী পৌরসভা আমীর হারুনুর রশিদ, চান্দগাঁও থানা সেক্রেটারী জসিম উদ্দীন সরকার, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী ওমর গণি, বাকলিয়া ১৭ নং ওয়ার্ডের নায়েবে আমীর আহমদুল হক, বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, বোয়ালখালীর বিশিষ্ট ব্যক্তি নুরুল কবির, আরিফুল হক টিপু, মাওলানা স.ম. মুছা, অধ্যাপক রেজাউল করিম প্রমুখ উপজেলা নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, আজকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং অন্তবর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করছে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তা প্রতিহত করতে হবে। দেশপ্রেমিক জনগণ কখনো দেশ ছেড়ে পালায় না। জামায়াত নেতৃবৃন্দের কয়েকজনকে আওয়ামী ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে বিদেশে যেতে বললেও তারা বিদেশে অবস্থান করেননি। দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ ডা: আবু নাছের অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে যোগ্য, জনবান্ধব নেতা এবং পরিশ্রম প্রিয় মানবিক চিকিৎসক। আগামী নির্বাচনে তাই ডা: আবু নাছেরকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয় করলে দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। তাই নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকলকে মাঠে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি প্রার্থী ডাঃ আবু নাছের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদের বিদায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে পুনরায় ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে। তাই আগামীতেও ফ্যাসিবাদ নির্মূলে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সৎ লোকের শাসন নিশ্চিত করলেই দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব। আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘকাল ধরে সমাজের ছোট ছোট সেবা করে আসছি। এখন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করায় এলাকায় বৃহত্তর পরিসরে সেবা দেয়ার সুযোগ দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সকল মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নিজেকে উৎসর্গ করছি। আপনারা আমাকে সর্বদা পাশে পাবেন। এলাকার উন্নয়নে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবেন। কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নে সব মহলের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। সর্বোপরি সাধারণ জনগণের ভোট চেয়ে সেবা করার সুযোগ দান করবেন এই প্রত্যাশা রাখছি। বিজয় আমাদের হবে, ইনশাআল্লাহ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ডা: আবু নাছের চট্টগ্রাম-৮ সবচেয়ে যোগ্য ও ত্যাগী নেতা। এলাকার মানুষের জন্য বছরের পর বছর সেবা দিয়ে আসছেন। দেশব্যাপী ইসলামের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ ডা: আবু নাছের বিজয় হয়ে তিনি চান্দগাঁও ও বোয়ালখালী মানুষের উন্নয়নে বিরাট পরিবর্তন ঘটবে। বাতিলের কোন ষড়যন্ত্র তোয়াক্কা না করে দেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাফর সাদেক বলেন, এ নির্বাচন বিজয়ের নির্বাচন। সময়, শ্রম ও যোগ্যতার সবটুকু দিয়ে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। শহীদ খোরশেদ, শহীদ কাউছার ও শহীদ ওমর সহ অনেক শহীদের রক্তস্নাত বোয়ালখালীর ময়দান ইসলামের জন্য উর্বর এলাকা। দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মাধ্যমে দখলবাজ ও চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগরী আমীর বলেন, ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে সকল ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। জিয়াউর রহমান গণভোট দিয়েছিলেন বিপ্লবের বৈধতার জন্য। কিন্তু বিএনপি আজ গণভোটকে ভয় পায়। বিএনপির উচিত গণভোটের পক্ষে ভূমিকা রাখা দরকার। ডা: আবু নাছের এর বিজয় হলে দুর্নীতিমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নত দেশ গঠনে সহায়ক হবে। সৎলোক নেতৃত্বে আসলে ব্যবসায়ী, জনগণ ও সরকারের জন্য কল্যাণ হবে। তাই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে সৎলোকে বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে জেলা আমীর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে বোয়ালখালীর শহীদ ওমর শাহাদাৎ বরণ করেন। শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জনগণের আশা আকাংখা প্রতিফলন ঘটাতে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় অনিবার্য। শহীদের রক্তস্নাত বোয়ালখালীর জনপদ ইসলামের দূর্বার ঘাটিতে পরিণত হবে। চট্টগ্রাম শহরে নিয়মিত গণসংযোগের মাধ্যমে ডাঃ আবু নাছের এর দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেয়া হবে। এ বিজয়ের মাধ্যমে এলাকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। গরীব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চায়। জনগণের আশা আকাংখা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে ডাঃ আবু নাছের ভাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।
শিবিরের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, জুলাই শহীদ ওমর ও শিবিরের দুই শহীদের রক্তস্নাত বোয়ালখালীর ময়দান আজ কথা বলছে। ইনশাআল্লাহ বিজয়ের মাধ্যমে তাদের রক্তের মূল্য আদায় হবে। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে চান্দগাঁও ও বোয়ালখালীর সকল জনশক্তি তাদের পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও সমাজের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারি, তবে আমাদের দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ খোরশেদ আলম বলেন, নির্বাচন হলো এখন প্রধান কাজ। ব্যস্ততার মাঝেও নির্বাচনের জন্য সময় দিয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে আপনাদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করছি। আশা করি আগামী নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে ইনশাআল্লাহ।