স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

গাজীপুরে হাম-রুবেলার উপসর্গ নিয়ে শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে প্রয়োজনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত চার দিনে ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, দুর্বলতা ও অবসাদজনিত উপসর্গ দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে গাজীপুর সদর উপজেলা থেকে ৭ জন, সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে ৬ জন এবং কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলা থেকে ৩ জন করে শিশু ভর্তি হয়েছে। শনিবার ৬ জন, রোববার ৭ জন, সোমবার ৯ জন এবং মঙ্গলবার সকালে আরও ৫ জন শিশু ভর্তি হয়। তারা বর্তমানে হাসপাতালের ১০ তলার শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনরা জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তারা সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর থেকে আসা এক শিশুর মা সালেহা বেগম বলেন, 'প্রথমে জ্বর ছিল, পরে সারা শরীরে দানা বের হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কিছুটা ভালো আছে।'

অপর এক শিশুর বলেন, 'দুই-তিন দিন ধরে জ্বর কমছিল না। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা নিয়মিত দেখছেন, এখন অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।'

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত রুবেলার উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, 'এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ-কারো ক্ষেত্রে উপসর্গ বেশি, আবার কারো ক্ষেত্রে কম দেখা যায়। আমাদের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে এবং রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।'

এদিকে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান জানান, সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় নতুন করে ১৫ জন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা স্বস্তির বিষয়। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছি।'

তিনি আরও জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম-রুবেলা একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।