এককভাবে পাওয়া ৬৮টি আসন নিয়ে দেশের সংসদের ইতিহাসে চতুর্থ বৃহত্তম দল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার সংসদীয় দলের সভায় আমীর শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। উপনেতা হচ্ছেন নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। জামায়াতের নির্বাচনী জোট সঙ্গী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হতে পারেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

জামায়াত জোট নির্বাচনে মোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এককভাবে জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ এবং খেলাফত মজলিস জিতেছে ১টি আসনে। এককভাবে বৃহত্তম বিরোধী দল ছিল বিএনপি। ১৯৯৬ সালের (জুন) সপ্তম সংসদ নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ১১৬ আসন। এর আগে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদের বিরোধী দল আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৮৮টি। ১৯৮৬ সালে বিরোধী দলে বসা আওয়ামী লীগের ৭৬টি আসন ছিল। সে হিসেবে ৬৮টি আসন নিয়ে এবার জামায়াত এককভাবে চতুর্থ বৃহত্তম বিরোধী দল হতে যাচ্ছে।

১৯৭৩ সালে গঠিত দেশের প্রথম সংসদে বিরোধী দলের এমপি ছিলেন সাতজন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৩৯টি, বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন আসাদুজ্জামান। ’৮৬ সালে তৃতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৮৮ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগ বিহীন একতরফা নির্বাচনে গঠিত চতুর্থ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন আ স ম আবদুর রহমান। সম্মিলিত বিরোধী দলের আসন ছিল ১৯টি।

নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে দেশে সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জয়ী দল বিএনপি পেয়েছিল ১৪০ আসন। আওয়ামী লীগ ৮৪ আসনে জিতে বিরোধী দল হয়। নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত স্বল্প মেয়াদী ষষ্ঠ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার পদ শূন্য ছিল। একই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে গঠিত সপ্তম সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া।

অষ্টম সংসদে (২০০১) শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার সময় দলটির আসন ছিল ৬২টি। নবম সংসদের (২০০৮) বিরোধী দল বিএনপির আসন ছিল ৩০টি। দশম সংসদ নির্বাচনে (২০১৪) দলটি অংশ নেয়নি। ৩৪ আসন নিয়ে বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি। নেতা হন রওশন এরশাদ। সে সময় বিরোধী দলটি ‘গৃহপালিত’ হিসেবে তকমা পায়। ‘রাতের ভোট’ হিসেবে খ্যাত একাদশ সংসদ নির্বাচনে (২০১৮) বিরোধী দলীয় নেতা হন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। আসন ছিল ২২টি। তাঁর মৃত্যুর পর আবারও বিরোধী দলীয় নেতা হন রওশন এরশাদ। ‘ডামি নির্বাচন’ খ্যাত দ্বাদশ (২০২৪) সংসদে ১১ আসন নিয়ে বিরোধী দলের নেতা হন জাতীয় পার্টির জি এম কাদের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই সংসদ বিলুপ্ত হয়। বাংলাদেশের সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদটি মন্ত্রী মর্যাদার। তিনি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান সুযোগ-সুবিধা পান। উপনেতার পদটি প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার। সরকারি দলের চিফহুইপ মন্ত্রী মর্যাদার হলেও, বিরোধীদলীয় চিফহুইপের এই মর্যাদা নেই।