র.ই.রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও : দেশবাসির কাক্সিক্ষত নির্বাচনের ট্রেন, যাত্রা শুরু করেছে। নির্বাচনের গরম হাওয়া বইছে দেশজুড়ে। আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটের মাঠ। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি চলছে জোরে সোরে। ফ্যাসিবাদের বাহু থেকে নির্বাচন ব্যবস্থা মুক্ত হওয়ায়, বিগত নির্বাচনের চেয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অংশগ্রহণ মূলক ও উৎসবমুখর। নতুন ভোটার এবং দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা ভোটাররা যেমন মুখিয়ে আছে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। তেমনিভাবে প্রার্থীরাও ভোটারদের মন জয় করতে ছুটে যাচ্ছেন তাদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন না না প্রতিশ্রুতি, দেখাচ্ছেন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন। ঠাকুরগাঁওয়ে তিনটি আসনে নির্বাচনী এ দৌড়ে রয়েছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয়পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণ মূলক ও উৎসব মুখোর।

ঠাকুরগাও-১ (সদর)

২২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা। শুধুমাত্র এ সদর উপজেলা নিয়েই আবার গঠিত হয়েছে সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৫। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯০৩। নারী ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ২৬৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। এখানে সংখ্যালঘু ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার। নতুন ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৭। এসব ভোটই মূলত জয় পরাজয়ের নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

বিএনপি: এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যিনি ধারাবাহিকভাবে ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির হয়ে এ আসনে লড়ছেন। বাম রাজনীতি থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ নিয়ে ৯১ ও ৯৬ সালে নির্বাচন করে পরাজিত হলেও ২০০১ সালের নিবার্চনে জয়লাভ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে বার বিএনপি জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্ত প্রতিমন্ত্রি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় সময় না দিতে পারায় সাধারণ মানুষের সাথে তার কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। পাশাপাশি দলের কিছু নেতাকর্মীর লাগামহীন কর্মকাণ্ডের দরুন তার জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। ফলে ২০০৮ নির্বাচনে তিনি হেরে যান। এরপর ২০১৮ সালেও এ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন মির্জা ফখরুল। তবে এবার জয়ের ব্যপারে ব্যাপক আশাবাদি তার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাদের দাবি যেহেতু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে না, তাই বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পতিত সরকারের দীর্ঘ সতের বছরে কয়েকবার কারাবরণ করেন। জেল জুলুম অত্যাচারের পাশাপাশি করা হয় শতাধিক মামলার আসামী। দলের মহাসচিব হওয়ায় রয়েছে তার বাড়তি পরিচিতি। সেই সাথে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে ভোটের মাঠে বাড়তি সুবিধা দিবে। দলের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নেই কোন গ্রুপিংও। নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধভাবেই তার নির্বাচন করবেন। তবে তৃণমূলে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারাটা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য দুর্বল পয়েন্ট হিসাবেই বিবেচিত হচ্ছে।

বয়স হয়েছে উল্লেখ করে এটিই জীবনের শেষ নির্বাচন হিসাবে ভোট চাইছেন মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মাত্র একবার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় উল্লেখ্যযোগ্য বড় ধরনের কোন উন্নয়ন কাজ করতে না পারলেও এবার দিচ্ছেন বড় বড় উন্নয়নের প্রতিশ্রিুতি। তার হয়ে ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ, ছোট মেয়ে মির্জা শাফারুহ।

জামায়াত: এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সুযোগও নেই বিএনপির। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছে জামায়াত। প্রথমবার নির্বাচনে আসা জামায়াতের তরুণ প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন যেন রীতিমতো মির্জা ফখরুলকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন বর্তমানে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য পদে। সেই সাথে পালন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারির দায়িত্ব। শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে গ্রেফতার করে। টানা ৫৭ দিন রিমান্ডে রেখে তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। যা দেশবাসির হৃদয়ে নাড়া দেয়। তখন থেকেই জীবন্ত শহীদ খ্যাত দেলাওয়ার একজন মজলুম নেতা হিসেবে ব্যপক পরিচিতি লাভ করেন।

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত পৃথকভাবে নির্বাচন করার কারণে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে দেলাওয়ার হোসেনকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে জামায়াত। এরপর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটের সমীকরণ। প্রথমবারের মতো এ আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। যে কোন মূল্যে দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে তারা যেন বদ্ধপরিকর। মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ উঠান বৈঠক পথসভা আর গণসংযোগে দিনরাত একাকার করছেন তারা। শহর গ্রাম, হাট বাজার মাঠে-ঘাটে নিরলস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে। পরিশ্রমের ফল হিসাবে সাধারণ মানুষের ব্যপক সাড়াও পাচ্ছেন তারা। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভোটের ফলাফল অনুকূলে আসবে বলেও দৃঢ বিশ্বাস জামায়াতের নেতাকর্মীদের। বিশেষ করে তরুণ, সংখ্যালঘূ এবং নারী ভোটাররা যেভাবে জামায়াতের দিকে ঝুকছে তাতে পাল্টে যেতে পারে অতীতের ভোটের হিসাব নিকাশ।

জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অত্র প্রতিবেদককে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, একটি ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা আমার মূল লক্ষ্য। যেখানে সন্ত্রাস, মাদক, সুদ,ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবজি, দখলদারিত্ব থাকবে না। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, দূর হবে বেকারত্ব। সকল নাগরিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে। সকল ধর্মের মানুষ মিলে মিশে সমাজে একসাথে বসবাস করবে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সম্মানিত ভোটারগণ আমাকে আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে, আমি আমার উক্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

এদিকে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামগীর, জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোঃ খাদেমুুল ইসলাম।

এ আসনে যে প্রার্থী হিন্দু ভোট ব্যাংক, ভাসমান ভোটার ও নতুন ভোটারদের টানতে পারবেন, তারাই এবার এ আসনে জয়ের মকুট পড়বে বলে সচেতন মহলের ধারণা।

ঠাকুরগাঁও-২

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমন্তবর্তী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি, হরিপুর উপজেলার ৬টি এবং রানীশংকৈল উপজেলার ২টি (ধর্মগড় ও কাশিপুর) ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-২ আসন। আসনটি বিগত কয়েক দশক আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবার তার দখল বদল হতে চলেছে। নতুন করে দখল নিতে ভোটের যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন জামায়াত, বিএনপি, গণঅধিকারসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।

জামায়াত: দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের জুলুম নির্যাতনের মাঝেও আসনটির মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম। যাকে ইতিমধ্যে এলাকার লোকজন জনতার এমপি বলে অভিহিত করছেন। কারণ হিসাবে তার দলের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, বিগত ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মাওলানা আব্দুল হাকিম বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী ও দলীয় আজ্ঞাবহ প্রশাসন তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এবার নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি এমপি নির্বাচিত হবেন। কারণ এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। নেতাকর্মীরা জীবন দিবে কিন্তু ব্যালটবাক্স ছিনতাই হতে দেবে না।

জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম সারা বছর এলাকায় থাকেন, মিশেন সাধারণ মানুষের সাথে। সুখে দুঃখে খোজ রাখেন দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের। ফলে এ এলাকার প্রতিটি ভোটার ও সাধারণ মানুষ তাকে খুব কাছে থেকেই চেনেন জানেন। বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় তার পদচারণা রয়েছে। তাকে চিনেন না এমন মানুষ হয়তো বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুরে খুঁেজ পাওয়া যাবে না। বিপদে আপদে সবার আগে ছুঁটে যান মাওলানা আব্দুল হাকিম। আর এসব কারণেই তাকে পছন্দের শীর্ষে রাখছেন ভোটাররা।

বিএনপি: নানা জল্পনা কল্পনার পর এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ডা: আব্দুস সালাম। মনোনয়ন পেলেও খুশি হওয়ার চেয়ে তার কপালে চিন্তার ভাজই যেন বেশি। কারণ বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক এমপি জেড মর্তুজা (তুলা) দলের সিদ্ধান্তে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে একাধিক গ্রুপিং, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের ফলাফল স্থগিত করা। শীর্ষ নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করাসহ নানা কারণে এ আসনে বেশ এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে বিএনপি।

বিএনপির প্রার্থী ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম সপরিবারে বসবাস করেন ঢাকায়। ফলে এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে তার তেমন পরিচিতি বা সক্রিয় যোগাযোগ কখনোই ছিল না বলা যায়। মনোনয়ন ঘোষনায় দেরি হওয়ায় নিশ্চিত ছিলেন না, আদৌ তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন কি না। শেষ মুহুর্তে মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। তার মধ্যে বিএনপির আরেক নেতা জেড মর্তুজা তুলা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। অপর দিকে দলীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দল থেকে বহিস্কার করা হয় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভারপাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ড. মাহবুবুর রহমানকে। সম্প্রতি আবার দলে ফেরার সুযোগ পেলেও আহবায়ক কমিটিতে নাম নেই শীর্ষ এই দুই নেতার। যে কারণে তারাও আর সক্রিয় হননি। ফলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল আর গ্রুপিংয়ে বিভ্রান্ত সাধারণ কর্মী সমর্থকরা। যে কারণে নির্বাচনী মাঠে দেখা মিলছে না অধিকাংশ নেতাকর্মীদের। ফলে এ আসনে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি।

এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি ফারক হাসান, জাতীয়পার্টির নুরুন্নহার বেগম, ইসলামী আন্দোলনের রেজাউল করিম, এবি পার্টির নাহিদ রানা নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-৩

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়ন এবং রানীশংকৈল উপজেলার ১টি পৌরসভা এবং ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসন। এ আসনেও লড়াই হবে মূলত জামায়াত এবং বিএনপির মাঝে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় আসনটি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয়পার্টির দখলে ছিল। তবে এবার এ আসনে নিজেদের জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রাখতে চায় জামায়াত।

জামায়াত: এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান মাস্টার। প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ দলমত ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে এলাকায় ব্যপক জনপ্রিয় ও সর্বজন শ্রদ্ধেয়। উনার বাড়ি রাণীশংকৈল উপজেলায়। যেখানে অন্যান্য দলের তুলনায় জামায়াতের জনসমর্থন বেশি বলে ধরা হয়। এখানে আর কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটাররা এলাকা থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগটাও কাজে লাগাতে চাইবে। সেই সাথে এই আসনে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মালদহী জনগোষ্ঠীর ভোট যা জামায়াতের প্রার্থীকে বাড়তি সুবিধা দিবে মলে মনে করেন অনেকেই। এছাড়াও জামায়াতের সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট করায়, এ আসনে এনসিপির প্রার্থী গোলাম মর্তুজা সেলিম জামায়াতের প্রার্থী মিজানুর রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং তার পক্ষে সর্বাত্মক কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে জামায়াত ভালো ফলাফল করবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

বিএনপি : বিএনপি থেকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান। যিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবার তাকে দিতে হবে জনপ্রিয়তার চরম পরীক্ষা। কারণ দলের মধ্যে বৃহৎ এটি অংশ তার মনোনয়ন প্রাপ্তিতে নাখোশ বলে জানা গেছে। নেতাকর্মীদের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে অনৈক্য তো আছেই। আবার জাহিদুর রহমানের একই এলাকা পীরগঞ্জ থেকে নির্বাচন করবেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। তার সমর্থনেও এলাকা থেকে ভোটের বড় একটি অংশ ভাগ হয়ে যাবে।

এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মামুনুর রশিদ, ইসলামী আন্দোলনরে মোঃ আল আমিন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাত সমীর শাহ্জাহান আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস,এম খলিলুর রহমান সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।