ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, কসবা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই পিটিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করে, চাঁদার জন্য পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করে তাদের কাছে এ দেশের মানুষের জান-মালের কোন নিরাপত্তা নয়। হিন্দুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে তুমরা যদি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দাও তাহলে তোমাদের খবর আছে। তোমরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে সাখা সিধুর থাকবে না, বোখরা পড়ে ঘর থেকে বের হতে হবে। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। ইসলামে হিন্দু, বৌদ্ধ খিষ্টান সব ধর্মের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিাদ্যালয়সহ দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে আমাদের সন্তানরা যখন নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্ধ প্রার্থীরা তাদেরকে দেশ বিরোধী, রাজাকার গুপ্ত বলেছে, তারা সকল অপ্রচার মিথ্যা প্রমাণ করে ছাত্র শিবির বিজয়ী হয়েছে। তাদের এ বিজয় আমাদের বার্তা দিয়েছে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয় করে তুমরা বাংলাদেশকে বদলে দাও। লুটপাট, চাদাঁবাজকারীদেরকে রাজনীতির মাঠ থেকে বিতারিত করে দাও। ফ্যাসিবাদ, চাদাঁমুক্ত ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার চাইলে হ্যাঁতে ভোট দেওয়ার জন্য জনগনকে আহবান জানান।
গতকাল শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা তফজ্জল আলী কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত ১১ দলের জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধান বক্তা ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, যারা স্বাধীনতার ৫৪ বছর যারা যে রাজনৈতিক দল দেশ শাসন করেছে তাদের প্রত্যেকেই দুর্নীতি করেছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দলীয়করণ, ভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়ে মামলা হামলা চালিয়ে, কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের আয়না ঘরে রেখে হত্যা করেছে।
বৈষম, দূর্নীতি,চাদাবাজি, সন্ত্রাস, ভিন্ন মতের দমন, বিচার ও সমাজ ব্যবস্থাকে ধংস করেছে তাদের হাত থেকে মানবিক, সমৃদ্ধ ও ইনসাফ ভিত্তিক একটি দেশ আমরা গড়ব। সেইজন্য ৫৪ বছর সততা, নৈতিক. দেশ প্রেমের পরীক্ষায় বার বার যারা ব্যর্থ হয়েছে তাদেরকে জনগণ আর ভোট দিবে না। জামায়াত ইসলামসহ ৬টি ইসলামী দল, জুলাই যুদ্ধাদের এনসিপিসহ ১১ দল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আজকের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার ১১ দলের প্রার্থী। ইসলাম, জুলাই যোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার চেতনা নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও দুর্নীতি মুক্ত এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে জনগণের ভালাবাসা নিয়ে ইনশাল্লাহ সরকার গঠন করব। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি তাহালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে সকল সমস্যা রয়েছে স্থানীয় হাসপাতালের উন্নতি, ও লাইন সম্প্রসারণ করে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগসহ সকল সমস্যা দুর করে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) সংসদীয় আসনে ১১দলীয় জোটের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আসনের সদস্য সচিব মাওলানা ইকবাল হোসেন ভুইয়া,নায়েবে আমীর শিবলী নোমানীর যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সাত্তার, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোবারক হোসেন আখন্দ, সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনে জোট প্রার্থী এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা মো. আতাউল্লাহ, জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অন্যতম নেতা হাফেজ আহমেদ, মাওলানা ইউনুস করিম বেলালী,কসবা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ,কসবা পৌর আমীর হারুন অর রশীদ, খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা ইউনুছ করিম বেলালী, কসবা উপজেলা সেক্রেটারি গোলাম সারোয়ার,সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকার, চট্রগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ভিপি ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল বারী, এনসিপির কসবার আহ্বায়ক কাজী মোশাহেদ উল্লাহ প্রমুখ।
আতাউর রহমান সরকার বলেন, কসবা-আখাউড়ায় দূর্নীতি, চাঁদাবাজ, মাদক মুক্ত গড়ে তুলতে সবার সহযোগী চান। উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তুলতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় ১০ দলীয় জোট ও জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় হাজার হাজার ভোটার, দলীয় কর্মী ও সমর্থক কলেজ মাঠে দুপুর থেকে সমবেত হয়। এক পর্যায়ে মহাসমাবেশে পরিণত হয়। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিপুল সখ্যক নারী ভোটার ও কর্মী সমর্থক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।
বাঞ্ছারামপুর: শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকা-ে জড়িত সকল আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসীনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। যারা নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে তৃতীয় কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নারী হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান, তিনি আরো বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্চারামপুর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনিত ১১ দলিয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থীত জুলাই যোদ্ধা মো: মহসিন ভাইকে নির্বাচিত করলে বাঞ্চারামপুর জয় কালীপুর থেকে বাহেরচর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ করবেন, বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নিত করবেন, তিনি নির্বাচিত হলে সরকারি টেক্স বিহিন গাড়ি গ্রহণ করবেন না। মো: মহসিন ভাই বাঞ্ছারামপুরের নেতা নয় সেবক হিসাবে আপনাদের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা আমির মাওলানা মোহাম্মদ আবুল বাশারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি মো. শামীম নূর ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেনÑউপজেলা জামায়াত কর্মপরিষদ সদস্য মুফতি কামালুদ্দিন ভুইয়া, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মাজেদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি আলাউদ্দিন সাদী, উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক মো. মাঈনুদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস উপজেলা সভাপতি মুফতি আতাউর রহমান ফরদাবাদী, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) মাওলানা আমজাদ হোসাইন আশরাফী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক জোনায়েদ হাসান, জেলা অফিস সেক্রেটারি মো. মনিরুজ্জামান, জেলা সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি মাওলানা আবুল বাশার ভুইয়া, জেলা প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মো. রোকন উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা নোয়াখালী অঞ্চল টিম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার।
সমাবেশে নির্বাচনী সংগীত পরিবেশন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস শিল্পীগোষ্ঠীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।