১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের অভিমুখে এ লংমার্চ যাত্রা শুরু করবে। এ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে শাপলা চত্বরে সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি ও মঞ্চ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি ও মঞ্চ পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি দেশবাসীকে লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’, ‘বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন’, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ’, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন’ এবং ‘সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ’—এই ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব দাবি জনগণের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের একক দাবি নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। অসংখ্য আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের শুভসূচনা হয়ে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
তিনি জানান, সকাল ৭টায় সমাবেশ শুরু হবে এবং সকাল ৮টার মধ্যেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের অভিমুখে লংমার্চ যাত্রা শুরু করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশবাসীকে শাপলা চত্বরে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ছয় দফা দাবি জনগণের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয় এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিও নয়। এই ছয় দফা দাবি আদায় করা জনগণের আকাঙ্ক্ষা। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুতের অংশ হিসেবে আগামীকাল লংমার্চের প্রথম কর্মসূচি শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর শনিবার ঢাকা থেকে সিলেটের অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ১৪ নভেম্বর শনিবার ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঘোষিত লংমার্চ সুষ্ঠু ও সফল করতে সরকার, প্রশাসন এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মঞ্চ ও সমাবেশস্থল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান ও মাওলানা শরিফুল ইসলাম। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।