বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়; বরং এটি জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার দাবি। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করতেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ছয় দফা দাবি জনগণের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিও নয়। এই ছয় দফা দাবি আদায় করা জনগণের আকাঙ্ক্ষা।”

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ উপলক্ষে সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি ও নির্মাণাধীন মঞ্চ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, এসব দাবি কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা জোটের নিজস্ব দাবি নয়; বরং দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে সমাবেশ শুরু হবে। সমাবেশ শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে সকাল ৮টার মধ্যে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ যাত্রা শুরু হবে।

তিনি বলেন, অসংখ্য আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এ লংমার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।

দেশবাসীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, “দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুতের অংশ হিসেবে আমরা আগামীকাল লংমার্চের প্রথম কর্মসূচি শুরু করবো, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি জানান, পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে তিনি সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং ড. আব্দুল মান্নান।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।